সাহসী এক কণ্ঠস্বরের অকালপ্রয়াণ, অনীক দত্তর প্রস্থানে টলিউডে এক অপূরণীয় শূন্যতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক চলে যাওয়ার ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি টলিউড। গড়িয়াহাটের বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে এই স্বাধীনচেতা পরিচালকের আকস্মিক মৃত্যুর পর চার দিন কেটে গেলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া কাটেনি। নন্দন থেকে এনটি ওয়ান স্টুডিও—সর্বত্রই টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন। কারো কাছে তিনি ছিলেন রাশভারী অভিভাবক, আবার কারো কাছে পরম বন্ধু ও জেন্টলম্যান। বাংলা সিনেমা জগতে তাঁর এই প্রস্থান কেবল একজন দক্ষ নির্মাতার বিদায় নয়, বরং এক আপসহীন ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নীরব হয়ে যাওয়া।
সৃষ্টির স্বকীয়তা ও নন্দনের বিতর্ক
অনীক দত্ত তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেননি, তবে যে কটি কাজ করেছেন তা দিয়ে দর্শকদের ভরপুর আনন্দ ও চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন। নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতি ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেন এই পরিচালক। তবে স্বাধীনচেতা স্বভাবের কারণে ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি একসময় নিজের ছবির প্রদর্শনীর জন্য নন্দনে জায়গা না পাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারও শিকার হন তিনি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও মানসিক দ্বন্দ্ব তাঁর সৃজনশীল সত্ত্বাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
আক্ষেপের অবসান ও টলিউডের ভবিষ্যৎ
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অনীক দত্তর সাহস ও মেধার প্রশংসা করে অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অনীক দত্ত লাইমলাইটের আড়ালে থেকে এমন কিছু কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন যা গোটা ভারতের বুকে বাংলা চলচ্চিত্রকে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ইন্ডাস্ট্রি এখন যে ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে আগামী দিনে নিজের কাজের জন্য অনীক দত্তকে হয়তো নন্দনে আর কোনো প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির এই উত্তরণ এবং যোগ্য সম্মানের পরিবেশ তিনি নিজে দেখে যেতে পারলেন না, যা টলিউডের জন্য একটি বড় আক্ষেপের বিষয় হয়ে রইল। পরিচালকের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নির্মিত সিনেমাগুলো পুনরায় প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনার দাবিও উঠছে চলচ্চিত্র মহল থেকে।
