সিংহের দাঁত বের করা মানেই হাসি নয়, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে পালটা হুঙ্কার ইরানের

সিংহের দাঁত বের করা মানেই হাসি নয়, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে পালটা হুঙ্কার ইরানের

হরমুজ প্রণালীতে মাসখানেকের আপেক্ষিক শান্তির অবসান ঘটিয়ে ফের সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে আমেরিকা ও ইরান। দু’পক্ষের গোলাগুলিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতকে সামান্য ‘লাভ ট্যাপ’ বা মৃদু আঘাত বলে বর্ণনা করলেও তেহরান একে যুদ্ধের উসকানি হিসেবেই দেখছে। ইরানের স্পষ্ট বার্তা, মার্কিন আগ্রাসনের মুখে তারা কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।

হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ যাওয়ার সময় ইরানের বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, মার্কিন জাহাজের কোনো ক্ষতি না হলেও তাদের পালটা হামলায় ইরানের বেশ কিছু ছোট যুদ্ধযান ধ্বংস হয়েছে। এর বিপরীতে ইরানের অভিযোগ, আমেরিকাই প্রথমে তাদের তেলের ট্যাঙ্কার এবং এমনকি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ড্রোন হামলার পাশাপাশি ওমানে গোলার আঘাতে বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এমনকি ফুজাইরার একটি জ্বালানি কেন্দ্রে হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কূটনৈতিক টানাপড়েন ও যুদ্ধের আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত পরমাণু চুক্তিতে সই করার জন্য চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরান চুক্তি না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হবে। তবে ট্রাম্পের এই প্রচ্ছন্ন হুমকিকে আমল দিতে নারাজ তেহরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একটি রূপকধর্মী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সিংহের দাঁত বাইরে বেরিয়ে থাকা মানেই সে হাসছে না।” তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি নিরাপত্তার বদলে অশান্তিই বাড়াচ্ছে।

মূলত পরমাণু কর্মসূচি এবং তেলের বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের এই দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প যেখানে আলোচনা ও চুক্তির টেবিলে ইরানকে বাধ্য করতে চাইছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত অবস্থানের দখল ছাড়তে নারাজ। এই পালটাপালটি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় একটি বড় মাপের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *