সিবিআই জালে অনিল আম্বানির ১৭ ঠিকানা, ২৭ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতি নিয়ে তোলপাড় মুম্বাই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিল্পপতি অনিল আম্বানির অস্বস্তি বাড়িয়ে শনিবার মুম্বাইয়ের ১৭টি বিভিন্ন স্থানে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। রিলায়েন্স এডিএ গ্রুপের তিনটি সহযোগী সংস্থা— রিলায়েন্স টেলিকম, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স এবং রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্সের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। আদালতের বিশেষ সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে সিবিআই আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যালয় ও আধিকারিকদের বাসভবনে তল্লাশি চালান।
তদন্তে উঠে আসা গুরুতর অনিয়ম
সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বিপুল অঙ্কের ব্যাংক তহবিল তছরুপ ও সরানোর জন্য বেশ কিছু মধ্যস্থতাকারী বা ‘শেল’ কো ম্পা নি ব্যবহার করা হয়েছিল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মধ্যস্থতাকারী কো ম্পা নিগুলোর অনেকগুলোই একই ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছিল। মূলত ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে অন্য খাতে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
বিপাকে রিলায়েন্স গ্রুপ ও শীর্ষ কর্তারা
গত কয়েক মাসে অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে সাতটি আলাদা মামলা দায়ের করেছে সিবিআই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও এলআইসি-র অভিযোগের ভিত্তিতে করা এই মামলাগুলোতে মোট জালিয়াতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭,৩৩৭ কোটি টাকা। এই মামলার সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের দুই শীর্ষ কর্তা ডি. বিশ্বনাথ এবং অনিল কালিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছে। ব্যাংক ঋণের এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ফলে দেশের আর্থিক খাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। আজকের এই অভিযানের পর অনিল আম্বানি ও তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কর্মকর্তাদের ওপর আইনি চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
