সিভিক ভলান্টিয়ারের খাঁচায় বন্দি আইন, অবশেষে শ্রীঘরে দুর্গাপুরের ‘প্রভাবশালী’ ধর্ষক চিরঞ্জিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুলিশের উর্দি আর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এক মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে শেষরক্ষা হলো না দুর্গাপুরের সিভিক ভলান্টিয়ার চিরঞ্জিত সাহার। নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে এবং আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক মহিলার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মেঘ কেটে যাওয়ায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই অভিযুক্ত। রবিবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভয়ের আড়ালে লাগাতার নির্যাতন
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। অভিযোগ, দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার বিদ্যাসাগর পল্লির বাসিন্দা সিভিক ভলান্টিয়ার চিরঞ্জিত সাহা ওই এলাকারই এক মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। অপরাধ ঢাকতে সে সময় কৌশলে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে রাখে অভিযুক্ত। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং পুলিশের প্রভাব খাটানোর হুমকি দিয়ে ওই মহিলাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। এই ব্ল্যাকমেইলিংকে হাতিয়ার করে দিনের পর দিন ওই নির্যাতিতার ওপর ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
ক্ষমতার দাপট ও বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব
ভয়ে ও আতঙ্কে দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর, গত ২৮ এপ্রিল দুর্গাপুর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও সিভিক ভলান্টিয়ারের ‘প্রভাবের’ কারণে পুলিশি পদক্ষেপ থমকে ছিল বলে দাবি আইনজীবীদের। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুলিশ-প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের কারণেই অবশেষে গ্রেপ্তার হলো চিরঞ্জিত। নির্যাতিতার আইনজীবী রতনকুমার সিং জানান, এতদিন পর অভিযুক্তের গ্রেপ্তার হওয়া স্পষ্টভাবেই পুলিশের পূর্বতন নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ দেয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তারা আদালতে ধৃতের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বর্তমানে দুর্গাপুর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
