সীমান্ত সুরক্ষায় এবার বড় পদক্ষেপ, ৭টি জাতীয় সড়ক কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল নবান্ন – এবেলা

সীমান্ত সুরক্ষায় এবার বড় পদক্ষেপ, ৭টি জাতীয় সড়ক কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিল নবান্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে এবার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রস্তাবকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং পরিকাঠামোগত কাজের গতি বাড়াতে মোট ৭টি জাতীয় সড়ককে NHAI এবং NHIDCL-এর হাতে হস্তান্তর করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

জট কাটিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে সড়কের দায়িত্ব

সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এতদিন রাজ্যের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পগুলির কাজ থমকে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই আইনি ও প্রশাসনিক জট পুরোপুরি কেটে গেল। এখন থেকে NH-31, NH-33 এবং NH-312–এর বিভিন্ন অংশের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের দেখভাল করবে ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (NHAI)। অন্যদিকে, ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সেভক-কোরোনেশন ব্রিজ, হাসিমারা–জয়গাঁও এবং চ্যাংরাবান্ধা রুটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ (NHIDCL)-কে। এই রুটগুলি উত্তরবঙ্গের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগের মূল লাইফলাইন।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব

নবান্নর এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সড়ক পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তাগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি দায়িত্ব পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর নজরদারি এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আরও মসৃণ হবে, যা দেশের সামগ্রিক সীমান্ত সুরক্ষাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

পাশাপাশি, এই সড়কগুলির উন্নয়নের ফলে দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্সসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে জোয়ার আসবে। বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুতগতির হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা পালন করবে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যেমন রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষার কৌশলকে মজবুত করবে, ঠিক তেমনই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *