জ্বালানি বাঁচাতে মরিয়া দিল্লি! এবার বেসরকারি ক্ষেত্রেও সপ্তাহে ২ দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর আর্জি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন সংকটের জেরে দেশজুড়ে সাশ্রয় নীতি বা কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় স্তরে জ্বালানি বাঁচানোর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ শুরু করেছে দিল্লি সরকার। সরকারি কর্মচারীদের পর এবার দিল্লির সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকেও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করার জোরালো আর্জি জানিয়েছে দিল্লির শ্রম দফতর। আগামী ১৮ মে, সোমবার থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই নির্দেশিকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে আইটি (IT) এবং আইটিইএস (ITES) সংস্থাগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। তবে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ এবং পুরসভার মতো জরুরি পরিষেবাকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
জোর গণপরিবহনে, সোমবার থেকেই বাড়তি মেট্রো
দিল্লিতে প্রতিদিন যাতায়াতের কারণেই সবচেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ হয়। তাই অফিসযাত্রীদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় গাড়ির চাপ এবং পেট্রল, ডিজেল ও সিএনজি-র মতো জ্বালানির অপচয় কমাতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) আগামী ১৮ মে থেকে ৬টি অতিরিক্ত ট্রেনের মাধ্যমে দৈনিক ২৪টি বাড়তি ট্রিপ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলিতেও প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনের সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। শ্রম দফতরের মতে, করোনা মহামারী এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের সময় বাড়ি থেকে কাজ করার পরিকাঠামো কতটা সফল হতে পারে তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত, তাই বেসরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এটি চালু করা কঠিন হবে না।
সরকারি দফতরে কড়া নিয়ম ও নয়া প্রচার
নিজেদের দফতরগুলিতে ইতিমিধ্যেই কড়া সাশ্রয় নীতি কার্যকর করেছে দিল্লি সরকার। সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের সমস্ত রকমের বিদেশ সফরের ওপর আগামী এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কর্মীদের গণপরিবহন ব্যবহার এবং ‘কার পুলিং’ বা গাড়ি ভাগাভাগি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে ৯০ দিনের একটি বিশেষ অভিযান ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’-এর সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। সরকারি স্তরে এই নিয়ম চালুর পর শ্রম দফতর এখন বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির ওপরেও কড়া নজর রাখবে যাতে এই নির্দেশিকা সঠিকভাবে পালন করা হয়।
সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব বজায় রাখতেই মূলত এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতির সিদ্ধান্ত। দিল্লি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন দৈনিক বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমায় দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
