সুন্দরবন রক্ষায় অভিনব উদ্যোগ, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মাতলার চরে হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ রোপণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিপন্ন সুন্দরবনকে বাঁচাতে এক নতুন লড়াইয়ের সূচনা হলো। নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং একের পর এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের সাঁড়াশি আক্রমণে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রাচীর ম্যানগ্রোভের সবুজ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছিল। এই চরম সংকট থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে এবার যৌথভাবে এগিয়ে এসেছে ‘উৎকর্ষে আরোহন’ ও ‘বিহান’ নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কৈখালী এলাকায় মাতলা নদীর পাড় জুড়ে হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করে চরের বুকে এক সবুজ উৎসবের সূচনা করলেন পরিবেশপ্রেমীরা।
সংকট মোকাবেলায় ম্যানগ্রোভের ঢাল
পরিবেশবিদদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, ম্যানগ্রোভের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। অতীতে আয়লা ও আমফানের মতো প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব প্রমাণ করেছে যে, এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যই প্রাকৃতিক দুর্যোগের গতি রুখে দেওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। একই সঙ্গে নদীপাড়ের মাটি আঁকড়ে ধরে তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধ করতে এর কোনো বিকল্প নেই। সেই সচেতনতা থেকেই এদিন মাতলার চরে বাইন, কাঁকড়া এবং সুন্দরী প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
সুরক্ষা ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার
কেবলমাত্র চারাগাছ রোপণ করাই নয়, সেগুলিকে বড় করে তোলার জন্য একটি সুসংহত রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছে কৈখালী রামকৃষ্ণ আশ্রম এবং স্থানীয় বাসিন্দারা, যাঁরা গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। ‘উৎকর্ষে আরোহন’-এর আহ্বায়ক অনুপম মজুমদার চারাগাছগুলির বিশেষ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন এবং ‘বিহান’-এর সম্পাদক সৌমেন দাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে ম্যানগ্রোভের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। ‘সুন্দরবনকে বাঁচাতে, মাতলা নদীর পাড়ে সুন্দরী তুলবে মাথা হাজারে হাজার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সচেতন করার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মাতলার চরে এক টুকরো সবুজ ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো।
