সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, দুই হাসপাতাল ঘুরে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

সোনারপুরে নজিরবিহীন হামলা, দুই হাসপাতাল ঘুরে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে আক্রান্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া, জামা ছিঁড়ে দেওয়া এবং মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর কলকাতার দুটি বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত রাতেই তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে বাড়িতেই তাঁর স্যালাইন ও অক্সিজেন চলছে।

চিকিৎসায় বাধার অভিযোগ ও হায়দরাবাদে স্থানান্তরের ইঙ্গিত

হামলার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে এবং পরে মিন্টো পার্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আইটিইউতে ভর্তি করা হলেও রাত বাড়তেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে পড়ে চিকিৎসা করতে পারেনি। পুলিশের শীর্ষস্তরের ফোন আসার পরই হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি রাখেনি বলে দাবি করেন তিনি। আপাতত পারিবারিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবসহ ‘ইন্ডি’ ব্লকের একাধিক শীর্ষ নেতা এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন। রাহুল গান্ধী নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে হায়দরাবাদে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। এই ঘটনাকে ‘ব্রুটালিটি’ বা চরম বর্বরতা বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষ সারির সাংসদের ওপর এই ধরনের হামলা এবং হাসপাতালের ওপর হুমকির অভিযোগ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও পড়তে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *