সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্লাস্টিকের ডিম’ ও ‘রঙিন তরমুজ’ আতঙ্ক, জেনে নিন আসল সত্যিটা – এবেলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্লাস্টিকের ডিম’ ও ‘রঙিন তরমুজ’ আতঙ্ক, জেনে নিন আসল সত্যিটা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্লাস্টিকের ডিম’ এবং ‘ইনজেকশন দিয়ে লাল করা তরমুজ’ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। এই ধরনের চাঞ্চল্যকর দাবি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই ধরনের গুজবের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাবার সম্পর্কে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞান ও সঠিক তথ্যের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্লাস্টিকের ডিমের রহস্য ও চেনার উপায়

এফএসএসএআই-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্লাস্টিকের বা কৃত্রিম ডিম বিক্রির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেক সময় ডিমের কুসুমের গঠন, সাদা অংশের ঘনত্ব বা খোসার ভিন্নতা দেখে মানুষ সেটিকে নকল ভাবেন, যা আসলে ডিমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল ডিমের মতো হুবহু কৃত্রিম ডিম তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল, যা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। ডিমের মান যাচাইয়ের জন্য একটি পাত্রে জল নিয়ে ডিমটি ডুবিয়ে দেখা যেতে পারে। তাজা ডিম জলের তলায় ডুবে যায় এবং পুরনো বা নষ্ট ডিম ভেসে থাকে। তবে ডিম ভেসে ওঠার অর্থ এই নয় যে সেটি প্লাস্টিকের।

তরমুজে রং দেওয়ার দাবি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

গরমে তরমুজে লাল রং বা মিষ্টি করার রাসায়নিক ইনজেক্ট করার যে দাবি করা হচ্ছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা। চিকিৎসকদের মতে, ইনজেকশনের মাধ্যমে তরল রং পুরো তরমুজের শাঁসে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া আসাম্ভব। এমনটা করা হলে ফলের গায়ে স্পষ্ট ছিদ্র ও পচনের লক্ষণ দেখা যেত। তরমুজের উজ্জ্বল লাল রঙের আসল কারণ হলো এতে থাকা ‘লাইকোপিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফল যত বেশি পাকে, তার লাল ভাব তত বৃদ্ধি পায়।

জনস্বাস্থ্যে গুজবের প্রভাব

খাদ্যদ্রব্য নিয়ে এই ধরনের যাচাইহীন ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ফলে বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি সাধারণ ক্রেতাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখছে এবং বিক্রেতাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এফএসএসএআই জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার যে কোনও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *