সৌদি আরবকে টক্কর দিতে আরব আমিরাতের বড় চাল! ভেঙে যেতে পারে শক্তিশালী তিনটি আঞ্চলিক সংগঠন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ওপেকের (OPEC) পর এবার আরব লিগ, জিসিসি এবং ওআইসি-র মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ডাকা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত রিয়াদকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই ফাটল কেবল তেলের বাজার নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
আমেরিকা-ইসরায়েল বলয়ে আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে কৌশলগতভাবে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ওয়াশিংটনকে সুপারিশ করেছে আবু ধাবি। এমনকি ইরানের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আমিরাত ইসরায়েলি ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। মূলত মুসলিম দেশগুলোর জোটে কোণঠাসা বোধ করার পর থেকেই আমিরাত নিজের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিল ব্যবহার করে নতুন জোট গড়ার পথে হাঁটছে।
সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কারণ
এই সম্পর্কের অবনতির মূলে রয়েছে ইয়েমেন ও সুদান যুদ্ধ নিয়ে মতভেদ। ইয়েমেনে এক অভিযানের সময় সৌদি আরব আমিরাতের জাহাজে হামলা চালালে দুই দেশের সম্পর্কে চির ধরে। এরপর ইরানের সাথে যুদ্ধে আমিরাত পাল্টাপাল্টি হামলার প্রস্তুতি নিলেও কাতার ও সৌদি আরব তাতে বাধা দেয়। এছাড়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি এবং পাকিস্তানের পাওনা অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সৌদির ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা দুই দেশের তিক্ততাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এক ঝলকে
- ওপেক এবং ওপেক প্লাসের পর আরব লিগ ও ওআইসি ছাড়ার পথে হাঁটছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সার্বভৌম তহবিল ব্যবহার করে আমিরাত এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।
- সৌদি আরবের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে আবু ধাবি।
- ইয়েমেন যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিনের মিত্র দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘাত।
