স্কটল্যান্ডের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন রামমোহন ও ঠাকুরবাড়ির বংশধর প্রিয়ানাজ! – এবেলা

স্কটল্যান্ডের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন রামমোহন ও ঠাকুরবাড়ির বংশধর প্রিয়ানাজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চলতি আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার প্রিয়ানাজ চট্টোপাধ্যায় এখন বিশ্ব ক্রিকেট মহলে এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই আলোচনার কারণ কেবল তাঁর অনবদ্য ক্রিকেটীয় দক্ষতা নয়, বরং তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক পারিবারিক শিকড়। সম্প্রতি একটি তথ্যচিত্রে সামনে এসেছে যে, স্কটল্যান্ডের এই ক্রিকেটারের ধমনিতে বইছে বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায় এবং কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির রক্ত। বিশ্বমঞ্চে একজন স্কটিশ ক্রিকেটারের এমন বাঙালি ঐতিহ্য প্রকাশের ঘটনাটি ক্রীড়াপ্রেমী ও ইতিহাসবিদদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

ডান্ডি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায়

স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে জন্ম নেওয়া প্রিয়ানাজ চট্টোপাধ্যায় মূলত একজন ডানহাতি ব্যাটার ও মিডিয়াম পেসার। মাত্র ১২ বছর বয়সে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু হয় এবং অতি অল্প বয়সেই তিনি জাতীয় দলে ডাক পান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফরফারশায়ার ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে দারুণ পারফর্ম করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের সারে এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন ব্লেজের মতো নামী ক্লাবের হয়ে কাউন্টি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচেও দলের ইনিংসে অপরাজিত অবদান রেখে তিনি নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন।

রক্তে মিশে আছে নবজাগরণ ও সাহিত্যের ইতিহাস

প্রিয়ানাজের এই অনন্য বংশপরিচয় মূলত তাঁর প্রপিতামহ মোহিনী চট্টোপাধ্যায়ের সূত্র ধরে বিস্তৃত। মোহিনী চট্টোপাধ্যায়ের ঠাকুমা ছিলেন স্বয়ং রাজা রামমোহন রায়ের কন্যা। আবার এই মোহিনী চট্টোপাধ্যায় বিয়ে করেছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা সরোজা দেবীকে, যিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইঝি। সেই সূত্রে প্রিয়ানাজ একদিকে রামমোহন রায় এবং অন্যদিকে ঠাকুরবাড়ির সরাসরি উত্তরসূরি। শুধু তাই নয়, প্রিয়ানাজের দাদু মনুজমোহন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্রখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য লিডার’-এর শেষ সম্পাদক এবং তাঁর বাবা মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কৃতী অর্থনীতিবিদ, যিনি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।

এই অভাবনীয় পারিবারিক সংযোগের খবরটি সামনে আসায় বিশ্ব ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। প্রিয়ানাজের মতো একজন বৈশ্বিক ক্রীড়াবিদের মাধ্যমে উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার ও সাহিত্যচর্চার গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের ক্রীড়ামোদীদের সামনে উন্মোচিত হলো। এটি যেমন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাঙালি প্রবাসীদের গৌরব বৃদ্ধি করবে, তেমনই ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের বহুসাংস্কৃতিক পটভূমিকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। স্কটল্যান্ডের জার্সিতে প্রিয়ানাজ যখনই মাঠে নামছেন, তিনি মূলত অবলীলায় বহন করে চলছেন বাংলার নবজাগরণের এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *