স্কুলের বইয়ে নির্বাচন কমিশনের জয়গান, পাঠ্যপুস্তকে ‘SIR’ বিতর্ক ঘিরে সরগরম রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নতুন দিল্লি: এনসিইআরটি (NCERT)-র নবম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্সের নতুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলো নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের অধ্যায়। পাঠ্যপুস্তকে কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে বিজেপি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধী শিবির।
পাঠ্যবইয়ে কেন এই পরিবর্তন?
গত বছর পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও কেরালাসহ একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করা হয়। সেই সময় অনেক ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। এনসিইআরটি-র নতুন বইয়ে সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পদ্ধতি এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা আগের সংস্করণে ছিল না।
বিজেপি বনাম বিরোধীদের সংঘাত:
- বিজেপির সাফাই: দলের মুখপাত্র আর পি সিং এই অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করে বলেন, “পড়ুয়াদের গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরণ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।”
- বিরোধীদের তোপ: পাল্টা সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, “এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে আমাদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এই বিতর্কিত বিষয়টিকে পাঠ্যপুস্তকে স্থান দেওয়া একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত।”
বিতর্কের কেন্দ্রে সিলেবাস:
শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, এর আগেই এনসিইআরটি-র সিলেবাসে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ইতিহাস যুক্ত করা হয়েছে। যা নিয়ে কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছে কেন্দ্রের শাসকদল। একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনাক্রমকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করায় শিক্ষা ও রাজনীতির মিশেলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিতর্ককেও উসকে দিচ্ছে।
