স্বাধীনতার পর বাংলায় নজিরবিহীন ভোট! ৯২ শতাংশ ছাড়াল হার, উচ্ছ্বসিত নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় রচিত হলো। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোট পড়েছে। কমিশনের ‘ECINet’ অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.২৫ শতাংশ, যা বিগত সমস্ত নির্বাচনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই বিপুল জনঅংশগ্রহণকে ‘ভোটের উৎসব, বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টাপাল্টি দাবি
ভোটের এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে। হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর কেন্দ্রে এবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা গত বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুললেও ফলাফলের বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শাসকদল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার দাবি করেছে।
রেকর্ড ভোটদানের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে তীব্র সচেতনতা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই ভোটদানের এই পাহাড়প্রমাণ হার সম্ভব হয়েছে। রেকর্ড এই ভোটদান বাংলার রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। এক্সিট পোলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও, বিপুল এই জনসমর্থন কোন দলের পক্ষে যাবে, তা নিয়ে সব মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের দুই দফার নির্বাচনে স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ৯২.২৫ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে।
- রেকর্ড ভোটদানকে গণতন্ত্রের জয় এবং ‘বাংলার গর্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
- ভবানীপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে বিগত বছরের তুলনায় ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এই বর্ধিত ভোটদানকে নিজ নিজ অনুকূলে রাজনৈতিক জয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
