স্বাস্থ্যকর ভেবে সব খাবারেই অলিভ অয়েল মেশাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরে কী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে জানেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20261:58 pm
আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের হেঁশেলে অলিভ অয়েলের চাহিদাই আলাদা। ওজন ঝরানো থেকে শুরু করে সুস্থ জীবনযাপন—সবকিছুর জন্যই ভিড় জমছে এই তেলের দরবারে। প্রচুর পরিমাণে মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর অলিভ অয়েল নিশ্চিতভাবেই ঘি কিংবা মাখনের দারুণ বিকল্প। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতেও এটি বেশ কার্যকর। কিন্তু ‘ভালো তেল’ ভেবে যদি ইচ্ছেমতো রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন, তবে লাভ তো দূরের কথা, শরীরের চরম ক্ষতি হতে পারে!
অতিরিক্ত অলিভ অয়েল খেলেই বিপদ! মনে রাখবেন, অলিভ অয়েলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলেও এটি ক্যালোরির দিক থেকে মোটেও পিছিয়ে নেই। মাত্র এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েলেই থাকে প্রায় ১২০ ক্যালোরি! তাই সঠিক পরিমাপ না মেনে খেলে এই স্বাস্থ্যকর তেলই আপনার ওজন বাড়ানোর প্রধান কারণ হতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, অতিরিক্ত অলিভ অয়েল পেটে গেলে পরিপাকতন্ত্রে বড় আঘাত পড়ে। ফলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া কিংবা গা বমি বমি ভাব হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অলিভ অয়েল কেবল একটি সুষম খাদ্যের অংশ, সুস্থ থাকার একমাত্র শর্টকাট নয়।
কাদের বেশি সাবধান হতে হবে? বিশেষ করে যাঁদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), গলব্লাডারের সমস্যা রয়েছে কিংবা নিয়মিত ডায়রিয়ায় ভোগেন, তাঁদের অলিভ অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ যাঁরা নিয়মিত খাচ্ছেন, তাঁদের ডায়েটে এই ধরনের যেকোনো তেল যুক্ত করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দিনে ঠিক কতটা অলিভ অয়েল খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ (প্রায় ১৫–৩০ মিলি) এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল স্বচ্ছন্দে খেতে পারেন। মাখন, সাধারণ সাদা তেল বা ক্ষতিকর ফ্যাটের বিকল্প হিসেবে রান্নায় অথবা স্যালাড ও সেদ্ধ সবজির ওপর ছড়িয়ে অলিভ অয়েল খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন—সীমার বাইরে কোনো কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
