স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান ভারত? দোটানায় হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় ফিরছেন রোগীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা। বিশেষ করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর অনিশ্চয়তা। কোথাও কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও কৌশলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। সরকারি স্তরে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা না আসায় হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বকেয়া টাকার বোঝা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা
বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বড় একটি অংশ বর্তমানে দোলাচলের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের মোটা অঙ্কের টাকা রাজ্যের কাছে বকেয়া থাকায় নতুন করে পরিষেবা দিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করছেন। যদিও প্রাইভেট নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটালস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনগুলো পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে ‘বেড খালি নেই’ এমন অজুহাত দিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডধারী রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। মূলত, বকেয়া পাওনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ই এই অনীহার মূল কারণ।
আয়ুষ্মান ভারত বনাম স্বাস্থ্যসাথী
বিজেপি শাসিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন যে, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা চালু করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প আদৌ স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তারা সকলেই আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসবেন কি না, কিংবা এই দুই প্রকল্পের মডিউল কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর বা নার্সিংহোম সংগঠনগুলোর কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
এই প্রশাসনিক অস্পষ্টতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। একদিকে মানবিকতার খাতিরে কিছু হাসপাতাল পরিষেবা জারি রাখলেও, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিষেবা সংকুচিত করছে বড় একটি অংশ। ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে, যা রাজ্যজুড়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
