স্মার্টফোনের গ্রাসে নিঃশেষ হচ্ছে পৃথিবী! ১০০ বছরেই ফুরিয়ে যাবে বিরল খনিজ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও, এই যন্ত্রটিই এখন ধরিত্রীর সম্পদ ভাণ্ডারের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। রসায়নবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—আমাদের হাতের এই ছোট ফোনটির জেরে খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে পৃথিবীর বহু মূল্যবান প্রাকৃতিক মৌল।
সংকটে পর্যায়সারণির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
রসায়নের পর্যায়সারণিতে থাকা ১১৮টি উপাদানের মধ্যে প্রায় ৩০টি মৌল একটি স্মার্টফোন তৈরিতে অপরিহার্য। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির (ACS) তথ্যমতে, এর মধ্যে ৪৪টি মৌলই বর্তমানে ‘বিপন্ন’ বা বিলুপ্তপ্রায় হিসেবে চিহ্নিত। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, এর মধ্যে থাকা অন্তত ৭টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ মৌল চরম সংকটে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমান হারে ব্যবহার চলতে থাকলে আগামী ১০০ বছরের মধ্যেই এই উপাদানগুলোর প্রাকৃতিক উৎস সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবে।
কেন এই হাহাকার?
প্রযুক্তির প্রতি মানুষের লাগামহীন আসক্তি এবং পুরনো ফোন বা গ্যাজেট সঠিকভাবে রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার না করার মানসিকতাই এই সংকটের মূল কারণ। কোটি কোটি স্মার্টফোন প্রতি বছর আবর্জনায় পরিণত হচ্ছে, যার ফলে মাটির তলা থেকে তুলে আনা মূল্যবান খনিজগুলো আর ফিরে পাওয়া যাচ্ছে না।
মুক্তির পথ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সময় সচেতন হওয়ার। এই খনিজ সংকট কাটাতে ‘গ্রিন কেমিস্ট্রি’ বা সবুজ রসায়নের প্রয়োগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, পুরনো স্মার্টফোন ফেলে না দিয়ে তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিসাইকেল করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যথায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো প্রযুক্তির রসদ জোগাতে গিয়ে সম্পূর্ণ রিক্ত এক পৃথিবীর মুখোমুখি হবে।

