স্যার বন্ধুর আত্মা ভয় দেখাচ্ছে, আমাকে গ্রেফতার করুন! খুনের ৭ দিন পর অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ, বাড়িতেই লুকানো দেহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বন্ধুর খুনের সাত দিন পর অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর। ডান্ডা দিয়ে পিটিয়ে বন্ধুকে খুনের পর বাড়ির আঙিনায় পুঁতে রেখেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী মিথলেশ কুজুর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মিথলেশের দাবি, মৃত বন্ধুর আত্মা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। শেষমেশ সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজেই গান্ধীনগর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন অভিযুক্ত।
বন্ধুর মৃত্যু এবং অপরাধ লুকানোর চেষ্টা
গত ২৪ ও ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী মৃত ব্রিজলাল আগরিয়া মদ্যপ অবস্থায় মিথলেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মিথলেশকে একসাথে মদ্যপান করার জন্য জোরাজুরি শুরু করেন। কিন্তু নবরাত্রির কারণে মিথলেশ মদ খেতে অস্বীকার করলে দুই বন্ধুর মধ্যে প্রবল বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মিথলেশের মোবাইল ফোনটি ভেঙে যায়। প্রিয় ফোনের ক্ষয়ক্ষতিতে মেজাজ হারিয়ে পাশে থাকা একটি ডান্ডা দিয়ে ব্রিজলালের মাথায় সজোরে আঘাত করেন মিথলেশ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ব্রিজলালের।
ঘটনার পর ভয় পেয়ে অপরাধ আড়াল করার পরিকল্পনা করেন মিথলেশ। নিজের স্ত্রী রাজকুমারীর সহায়তায় বাড়ির আঙিনায় গর্ত খুঁড়ে ব্রিজলালের দেহ লুকিয়ে ফেলেন। ওপর থেকে প্লাইউড ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় সেই গর্ত, যাতে কেউ কোনো সন্দেহ করতে না পারে।
মানসিক যন্ত্রণা ও অলৌকিক ভয়ের দাবি
খুন করার পর থেকেই মিথলেশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পুলিশের কাছে তার দাবি, গত সাত দিন ধরে তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি। তার চোখের সামনে বারবার মৃত বন্ধু ব্রিজলালের আত্মা ভেসে উঠছিল। মিথলেশ জানান, সেই আত্মা তাকে বলছিল যেন তার মৃতদেহের সঠিক সৎকার করা হয়। এই অলৌকিক ভয় এবং অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ গত রবিবার মিথলেশের বাড়ির আঙিনা থেকে ব্রিজলালের পচনশীল দেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অম্বিকাপুর পুলিশ এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তের স্ত্রীকে এই অপরাধে সহায়তার দায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: অম্বিকাপুর, ছত্তিশগড়।
- নিহত: ব্রিজলাল আগরিয়া (৩৫)।
- অভিযুক্ত: মিথলেশ কুজুর (৩৭)।
- খুনের কারণ: নবরাত্রিতে মদ্যপান নিয়ে বিবাদ এবং মোবাইল ভেঙে যাওয়া।
- মৃতদেহ উদ্ধার: খুনের ৭ দিন পর বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার।
- আত্মসমর্পণের কারণ: মৃত বন্ধুর আত্মার ভয় এবং মানসিক অনুশোচনা।
