স্লিপার সেল তৈরির আগে টাকে চুল প্রতিস্থাপন লশকর জঙ্গির, শ্রীনগরের ক্লিনিকে সাধপূরণ লাহৌরের বাসিন্দার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে বড়সড় নাশকতামূলক হামলা ও স্লিপার সেল তৈরির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল পাকিস্তানি লশকর-এ-ত্যায়বা জঙ্গি মহম্মদ উসমান জাট ওরফে চাইনিজ়। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে পা রাখার পরই জঙ্গি কার্যকলাপের চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের এক ব্যক্তিগত সাধপূরণে মগ্ন হয়ে পড়ে সে। নাশকতা ঘটানোর আগেই শ্রীনগরের একটি ক্লিনিকে গিয়ে মাথার টাকে চুল প্রতিস্থাপন (হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) করায় এই লশকর জঙ্গি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, স্লিপার সেল গোছানোর আগেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ধরা পড়েছে সে।
বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে মোহভঙ্গ
লাহৌরের বাসিন্দা ধৃত জাট জেরায় স্বীকার করেছে, পাকিস্তানে লশকর শিবিরের প্রশিক্ষণের সময় ভারতের কাশ্মীর নিয়ে তাদের যা বোঝানো হয়েছিল, শ্রীনগরে এসে তার কোনো মিল সে পায়নি। এখানকার সাধারণ মানুষের উন্নত জীবনযাপন দেখে নিজের রূপচর্চায় মন দেয় সে। বিগত কয়েক বছর ধরে চুল পড়তে থাকায় মানসিকভাবে দীর্ণ জাট ভাবত, পশ্চিমা দেশ ছাড়া কোথাও চুল প্রতিস্থাপন সম্ভব নয় এবং তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কিন্তু শ্রীনগরে এসে স্থানীয় এক দোকানদারের মাধ্যমে সে জানতে পারে যে এখানেই আধুনিক চিকিৎসায় চুল প্রতিস্থাপন সম্ভব। এরপরই একটি ক্লিনিকে গিয়ে গোপনে নিজের টাকে চুল প্রতিস্থাপন করায় এই লশকর জঙ্গি।
ব্যর্থ হলো আন্তর্জাতিক স্তরের বড় ছক
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, চুল প্রতিস্থাপনের পর জম্মু হয়ে বাসে চেপে পঞ্জাবে পৌঁছায় জাট। তার মূল পরিকল্পনা ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে জঙ্গিদের স্লিপার শাখা তৈরি করা এবং জাল পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি দেওয়া। এর আগে ২০১২ সালে ভারতে অনুপ্রবেশকারী উমর নামের এক লশকর জঙ্গি দীর্ঘ বারো বছর পর ২০২৪ সালে জাল পাসপোর্ট তৈরি করে ইন্দোনেশিয়া হয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। জাটও সেই একই পথ অনুসরণের ছক কষেছিল। তবে দেশজুড়ে বড়সড় নেটওয়ার্ক বিস্তারের এই আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সফল হওয়ার আগেই শ্রীনগর পুলিশ ও এনআইএ-র জালে ধরা পড়ে উসমান জাট এবং তার সহযোগী লশকর জঙ্গি আবু হুরেইরা। এই গ্রেফতারির ফলে ভারতের অভ্যন্তরে লশকরের একটি বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
