হরমুজ সঙ্কটের মাঝেই ইজরায়েলের বড় ধামাকা: হামাসের শীর্ষ সামরিক প্রধান হাদ্দাদ খতম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির টানাপোড়েনের মাঝেই গাজা উপত্যকায় বড়সড় বিমান হামলা চালাল ইজরায়েলি সেনা। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের তৈরি হওয়া হোরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই অভিযানে নিহত হয়েছে হমাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ। গত শুক্রবারের এই অভিযানে হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ-এর দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিল এই শীর্ষ কমান্ডার।
নেপথ্যের কারণ ও যুদ্ধবিরতিতে প্রভাব
ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের খবর, হমাসের পূর্বতন সামরিক প্রধান মহম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর পর আল-হাদ্দাদ এই শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিল। অত্যন্ত চতুর এই কমান্ডার অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ইজরায়েলি পণবন্দিদের ঢালে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে দাবি সেনার। ১৯৪০-এর দশকে হমাসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ইজরায়েল বিরোধিতায় অন্যতম নীতি-নির্ধারকের ভূমিকা পালন করছিল। ফলে তাকে খতম করা ইজরায়েলি সেনার জন্য একটি বড় কৌশলগত সাফল্য।
এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। হমাসের নিরস্ত্রীকরণ সহ একাধিক জটিল ইস্যুতে দুই পক্ষের আলোচনা থমকে রয়েছে। গত অক্টোবর থেকে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইজরায়েলি হামলা চলছে, যার ফলে যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ৮৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হাদ্দাদের মৃত্যু দুই পক্ষের সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাদ্দাদের পরিবার এবং হমাস সূত্র ইতিমধ্যেই এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। শনিবার গাজা সিটিতে হমাস ও ফিলিস্তিনের পতাকায় মুড়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ইজরায়েলি সেনা প্রধান সাফ জানিয়েছেন, দেশের শত্রুদের নির্মূল করতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের চটজলদি কোনো রাজনৈতিক সমাধান আপাতত অধরাই থাকছে।
এক ঝলকে
- ইজরায়েলের বিমান হামলায় হমাসের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছে।
- নিহত হাদ্দাদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং মহম্মদ সিনওয়ারের উত্তরসূরি ছিল।
- হাদ্দাদের মৃত্যুর খবর ইজরায়েলি সেনার পাশাপাশি তার নিজের পরিবার ও হমাস সংগঠনও নিশ্চিত করেছে।
- অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি ও হমাসের নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার মাঝেই এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল।
