হালিশহরে জোড়াফুলে ‘মহা-ধস’! একযোগে ১৬ কাউন্সিলরের ইস্তফা, হাতছাড়া হচ্ছে পুরবোর্ড? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ধস নামল হালিশহর পুরসভায়, ১৬ তৃণমূল কাউন্সিলরের গণইস্তফায় তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কট!
রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার জোর ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভায় একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। ২৩টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই পুরসভায় একসাথে এতজন কাউন্সিলরের ইস্তফায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলগতভাবে এই গণইস্তফা পুরবোর্ডের স্থায়িত্বকে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ব্যারাকপুর মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এই কাউন্সিলররা, যাদের মধ্যে ৫ জন মহিলাও রয়েছেন।
ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম বহিঃপ্রকাশ
দলীয় সূত্রের খবর, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ জমছিল। পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের মূল অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কিংবা স্থানীয় সাংসদ—কেউই তাঁদের সাথে কোনো যোগাযোগ বা বৈঠক করেননি। এই চরম অসহযোগিতার জেরেই তাঁরা ইস্তফার পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা পুরসভার অন্দরে নেতৃত্বের অভাব এবং গভীর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই স্পষ্ট করে দিল। এর আগে প্রতিবেশী কাঁচড়াপাড়াতেও একই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, ফলে হালিশহরের এই ঘটনা জেলার রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরও উস্কে দিল।
পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস
পুরসভায় এই বিরাট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ওলটপালটের মধ্যেও নিজের পদে বহাল রয়েছেন হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ। তিনি এই গণপদত্যাগে সামিল হননি। অন্যদিকে, বিজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগকারী ১৬ জন কাউন্সিলরের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এই গণইস্তফার ফলে পুরসভায় এক ধরণের প্রশাসনিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হলেও, সাধারণ মানুষকে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও সাধারণ মানুষের পুর-পরিষেবায় কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সমস্ত কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
এক ঝলকে
পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ পদত্যাগ করেননি এবং পুর-পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক সুদীপ্ত দাস।
২৩টি ওয়ার্ডের হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের মধ্যে ৫ জন মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাংসদের অসহযোগিতা এবং যোগাযোগের অভাবকেই ইস্তফার মূল কারণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
