হাসপাতালে ৫.২ কেজি ওজনের বিস্ময় শিশুর জন্ম দেখে তাজ্জব চিকিৎসকরাও- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মাতৃত্বের আনন্দ পৃথিবীর সবথেকে বড় সুখ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতিটি হবু মা-ই চান তাঁর সন্তান যেন সুস্থ ও পুষ্টিকর হয়ে জন্মায়। সাধারণত একটি নবজাতকের ওজন আড়াই থেকে সাড়ে তিন কেজির মধ্যে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি আসামের কাছাড় জেলায় এমন এক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন চিকিৎসকরা, যা রীতিমতো বিরল। সেখানে এক নারী ৫.২ কেজি ওজনের এক বিশালাকায় শিশুর জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকের এই ওজন দেখে শুধু পরিবার নয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
নির্ধারিত সময়ের পর জন্ম এবং জরুরি অস্ত্রোপচার
আসামের কাছাড় জেলার সতীন্দ্রমোহন দেব সিভিল হাসপাতালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ২৭ বছর বয়সী প্রসূতি জয় দাসকে গত ১৭ জুন প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক হানিফ জানান, তিনি শুরু থেকেই জয়ের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁকে ২৯ মে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে পরিবার দেরি করে ১৭ জুন হাসপাতালে পৌঁছায়। এটি জয়ের দ্বিতীয় সন্তান ছিল। এর আগে তাঁর প্রথম সন্তানের জন্মও সিজারিয়ান পদ্ধতির মাধ্যমে হয়েছিল। এবারের ক্ষেত্রে প্রসূতি শেষ সোনোগ্রাফি না করানোয় গর্ভস্থ শিশুর সঠিক ওজন সম্পর্কে আগে থেকে চিকিৎসকদের কোনো ধারণা ছিল না।
চিকিৎসকদের বিস্ময় ও শিশুর শারীরিক অবস্থা
হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন বা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচারের পর যখন নবজাতকের ওজন নেওয়া হয়, তখন দেখা যায় শিশুটির ওজন ৫.২ কিলোগ্রাম। সাধারণত আসামে নবজাতকদের গড় ওজন ২.৫ থেকে ৩ কেজির মধ্যে হয়। ৫ কেজির বেশি ওজনের শিশু জন্মানোর ঘটনা চিকিৎসকদের মতে অত্যন্ত বিরল। ডাঃ হানিফ জানান, তিনি এই বিষয়ে অন্য অনেক চিকিৎসকের সাথেও কথা বলেছেন, কিন্তু কেউ সচরাচর এমন ঘটনা আগে দেখেননি। জয় দাস এবং বাদল দাসের প্রথম সন্তানের ওজন জন্মের সময় ৩.৮ কেজি ছিল, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও দ্বিতীয় সন্তানের ওজন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিরল ঘটনার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি ‘লেট ডেলিভারি’ বা প্রসবের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার মামলা। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়া এবং হাসপাতালে দেরিতে আসার কারণে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত পুষ্টির আধিক্য বা গর্ভাবস্থায় বিশেষ কিছু শারীরিক পরিবর্তনের কারণে শিশুর ওজন এমন অস্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- আসামের কাছাড় জেলার সতীন্দ্রমোহন দেব সিভিল হাসপাতালে ৫.২ কেজি ওজনের শিশুর জন্ম।
- প্রসূতি জয় দাসের এটি দ্বিতীয় সন্তান, যা সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্ম নিয়েছে।
- প্রসবের নির্ধারিত তারিখ (২৯ মে) পেরিয়ে যাওয়ার পর ১৭ জুন হাসপাতালে আসেন পরিবার।
- নবজাতকের গড় ওজনের তুলনায় এই ওজন দ্বিগুণ হওয়ায় অবাক চিকিৎসকরা।
- বর্তমানে মা এবং নবজাতক উভয়ই সুস্থ ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
