হিন্দু মন্দিরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ২ উইঘুর মুসলিমের মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় থাইল্যান্ড কোর্টের! – এবেলা

হিন্দু মন্দিরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ২ উইঘুর মুসলিমের মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় থাইল্যান্ড কোর্টের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের এক বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মামলায় এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায় দিল থাইল্যান্ডের আদালত। ২০১৫ সালে ঘটা ওই নৃশংস বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দুই চিনা উইঘুর (Uighur) মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসির) আদেশ দিয়েছে বিচারক।

২০১৫ সালে ব্যাংককের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘এরাওয়ান’ (Erawan) মন্দিরে ওই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছিল। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ২০ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ১২০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। উল্লেখ্য, এই এরাওয়ান মন্দিরটি হিন্দু দেবতা সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত, যেখানে থাই বৌদ্ধ এবং হিন্দুরা অত্যন্ত ভক্তিভরে পুজো দিতে আসেন। এই পবিত্র স্থানেই হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা।

আদালত এই জঘন্য অপরাধের জন্য যে দুই আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর নির্দেশ দিয়েছে, তারা হলো— ইউসুফ মিরাইল এবং বিলাল মহম্মদ। কোনো হিন্দু মন্দিরে হামলার দায়ে থাইল্যান্ডে মুসলিম অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

চীনে নিষেধাজ্ঞা, বাইরে এসে হিংসা:

চীনে উইঘুর মুসলিমদের ওপর সে দেশের কমিউনিস্ট সরকার দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। চিনা আইন অনুযায়ী তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাড়ি রাখতে পারেন না, রোজা রাখতে পারেন না এবং মহিলারা বোরখা পরতে পারেন না। এমনকি বাচ্চাদের নাম রাখার ক্ষেত্রেও রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। মহম্মদ, জিহাদ, ইসলাম, ইমাম, সাদ্দামের মতো ২৯টি নাম রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নিজের দেশে চরম নিপীড়নের শিকার হওয়া এই উইঘুর মুসলিমদের একাংশ দেশের বাইরে বেরিয়ে অন্য দেশে হিন্দু মন্দিরে এই ধরণের নৃশংস জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে।

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া ‘শিবমন্দির’ বিতর্ক:

থাইল্যান্ডে ভারতীয় ও থাই স্থাপত্যের মেলবন্ধনে তৈরি অসংখ্য ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির রয়েছে, যেখানে বৌদ্ধরাও সমানভাবে পুজো দেন। ভারতের সাথে থাইল্যান্ডের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

তবে একটি প্রাচীন শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ড ও প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার মধ্যে দশকের পর দশক ধরে সীমান্ত বিরোধ চলছে। ১৯৬২ সালেই আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) রায় দিয়েছিল যে, ‘প্রীহ বিহার’ (Preah Vihear) নামের এই শিবমন্দিরটি কম্বোডিয়ার অংশ। তা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানায়, যা নিয়ে অতীতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *