হুগলিতে পুলিশি অভিযানে জালে হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা ও কর্মী, কাটমানি থেকে খুনের মামলায় অ্যাকশন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পরই আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত করতে শুরু করেছে নতুন প্রশাসন। ভোট-পরবর্তী হিংসার ফাইল খোলার এবং তোলাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। সোমবার হুগলি জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান চালিয়ে খুন, তোলাবাজি, কাটমানি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা, কর্মী ও দল-ঘনিষ্ঠকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুন ও কোটি টাকার কাটমানি চক্রে গ্রেফতার শাসক-ঘনিষ্ঠরা
পুলিশি অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে হুগলির মগরায়। তৃণমূল সরকারের আমলে খুন, তোলাবাজি এবং জমি দখলের অন্যতম অভিযুক্ত, শাসকদল ঘনিষ্ঠ বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে বৈদ্যকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু থেকে গ্রেফতার করেছে মগরা থানার পুলিশ। গত বছর বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দা লক্ষ্মণ চৌধুরী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে খুনের অভিযোগ ওঠে বৈদ্যনাথের বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকায় এত দিন পার পেয়ে গেলেও, শেষ রক্ষা হলো না।
অন্য দিকে, শ্রীরামপুরে মৃতের ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আইএনটিটিইউসি সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল ও প্রাক্তন সম্পাদক শেখ রিয়াল। ২০২৪ সালে এক স্পিনিং মিল কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের প্রাপ্য ১৮ লক্ষ টাকা আদায়ের নাম করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। নতুন সরকার গঠনের পর ভুক্তভোগী পরিবার পুনরায় অভিযোগ জানালে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট তাঁদের গ্রেফতার করে ১০ দিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতে পাঠায়।
খুলল ভোট-পরবর্তী হিংসার ফাইল
তদন্তে জানা গেছে, কেবল আর্থিক দুর্নীতি বা অপরাধ নয়, রাজনৈতিক হিংসার মামলাতেও এবার কড়া অবস্থান নিচ্ছে পুলিশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেবাশিস ঘোষ, শুকদেব মাহাতো এবং টুটুল দাস নামে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা অপরাধমূলক মামলাগুলির গতি বাড়িয়ে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, অপরাধের সাথে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই গ্রেফতারি অভিযানের ফলে আগামী দিনে জেলার অপরাধমূলক কার্যকলাপে বড়সড় লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
