হেমন্তের ইস্তফার দাবি! ঝাড়খণ্ডে উত্তাল JPSC-JSSC আন্দোলন, রাহুলকেও সমর্থন প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি – এবেলা

হেমন্তের ইস্তফার দাবি! ঝাড়খণ্ডে উত্তাল JPSC-JSSC আন্দোলন, রাহুলকেও সমর্থন প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও অস্বচ্ছতার অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছে। JPSC (Jharkhand Public Service Commission) এবং JSSC (Jharkhand Staff Selection Commission)-এর একাধিক পরীক্ষার বিরুদ্ধে চলা এই প্রতিবাদ এবার সরাসরি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ইস্তফা দাবি করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটে থাকা কংগ্রেসকেও সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

১৬ ও ২০ অগস্টের কড়া কর্মসূচি:

আন্দোলনকারী সংগঠন ‘JPSC-JSSC Reforms Manch’ তাদের প্রতিবাদ আরও জোরদার করতে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে:

  • ১৬ অগস্ট (রবিবার): ঝাড়খণ্ডের সবকটি (২৪টি) জেলা সদরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল দাহ করা হবে।
  • ২০ অগস্ট: দাবি আদায় না হলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের রাঁচিস্থিত সরকারি বাসভবন ঘেরাও করবেন হাজার হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থী।

ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসোয়ান জানান, দীর্ঘ ২২ দিন ধরে আন্দোলন চললেও সরকার মূল দাবিগুলো মানেনি। অতীতে ১০ অগস্ট বিধানসভা অভিযানে পুলিশি বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও তাঁরা পিছপা হননি।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি:

১. বিতর্কিত JSSC-CGL পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ২. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা সবকটি JPSC পরীক্ষা বাতিল করা। ৩. পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য CBI অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন। ৪. পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া। ৫. নৈতিক দায় স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ।

স্বাধীনতা দিবসে ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ ও অনশন:

আন্দোলনের ২২তম দিনে (১৫ অগস্ট) রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চক পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে একটি বিশাল ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ বের হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, “স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও আমাদের সরকারি চাকরির স্বচ্ছতার জন্য রাজপথে লড়াই করতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম মুখ JLKM নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অনশনরত আরও দুই পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।

সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান:

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আশ্বাস দিয়েছেন যে, তরুণদের ভবিষ্যৎ কোনো নিয়োগ মাফিয়ার হাতে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

  • সরকার ইতোমধ্যে ১৪তম JPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করেছে।
  • আরও দুটি পরীক্ষা বাতিলের আশ্বাস এবং অন্য একটি তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
  • পড়ুয়াদের মতামত সরাসরি শোনার জন্য ‘Chhatron Ki Baat – Chhatron Ke Sath’ নামক একটি বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্য সরকার।

তবে আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা—শুধু মুখের আশ্বাস বা আংশিক পরীক্ষা বাতিল নয়, মূল দাবিগুলি পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই থামবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *