হেলমেটহীন বাইক চালকদের রেহাই নেই, অবৈধ টোল প্লাজা উচ্ছেদেও কড়া নবান্ন

হেলমেটহীন বাইক চালকদের রেহাই নেই, অবৈধ টোল প্লাজা উচ্ছেদেও কড়া নবান্ন

রাজ্যের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা রুখতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেই এখন থেকে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে হবে চালকদের। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা অবৈধ টোল প্লাজা ও কালেকশন পয়েন্টগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

হেলমেট বাধ্যতামূলক করতে যৌথ অভিযান

দীর্ঘদিন ধরেই ট্র্যাফিক আইনকে তোয়াক্কা না করে হেলমেটহীন বাইক চালানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের শহরে দ্রুতগতির বাইকের দাপটে বাড়ছে প্রাণহানি। এই বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার নবান্ন থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, হেলমেট পরা নিশ্চিত করতে ট্র্যাফিক বিভাগ ও থানাগুলোকে যৌথভাবে বিশেষ অভিযানে নামতে বলা হয়েছে। এডিজি (ট্র্যাফিক) নিয়মিত এই অভিযানের রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হেলমেট পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রচার চললেও নিয়মের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা রুখতে এবার কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেআইনি টোলগেট নিয়ে কঠোর প্রশাসন

সড়কপথে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের হয়রানি রুখতে রাজ্যের অবৈধ টোল প্লাজাগুলোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলায় থাকা অবৈধ টোলগেট, ড্রপগেট বা কালেকশন পয়েন্টগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। কোনোভাবেই যাতে সাধারণ যাত্রীদের থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় না করা হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের। মূলত সরকারি নির্দেশ ছাড়াই যত্রতত্র ব্যারিকেড দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যা এবার চিরতরে বন্ধ করতে চাইছে প্রশাসন।

প্রভাব ও সর্তকতা

সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে একদিকে যেমন পথ দুর্ঘটনা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়কপথে বেআইনি চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। ট্র্যাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের এই ‘অ্যাকশন মোড’ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন মানার সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে। তবে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *