১০০ আসনে জালিয়াতি! হারের পর মৌনভঙ্গ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা, ১৪ মে ২০২৬: রাজ্যে অভাবনীয় নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হারের ধাক্কায় মুষড়ে পড়া কর্মীদের চাঙ্গা করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, মানুষের রায়ে নয় বরং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে অন্তত ১০০টি আসনে ফলাফল ‘লুট’ করেছে বিজেপি। এই অবিচারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ডাক দিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গণনা কেন্দ্রে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকে নিভৃতে থাকলেও, অভিষেক এদিন রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন। তাঁর অভিযোগ, গণনার দিন তৃণমূলের প্রার্থী ও এজেন্টদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাই কার্যত পুরো গণনা প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে তিনি সরব হন। তাঁর মতে, এটি কোনও নৈতিক হার নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূলের নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা মানুষের রায়কে সম্মান করি, কিন্তু জালিয়াতিকে নয়।”
আইনি লড়াই ও পরবর্তী প্রভাব
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রতিটি কারচুপি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস সাংবিধানিক পথে লড়াই চালাবে। একইসঙ্গে ভোটের পরবর্তী হিংসা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই কড়া অবস্থান আদতে হতাশ কর্মীদের মনোবল ফেরানোর একটি কৌশল। নির্বাচনী বিপর্যয় সত্ত্বেও ময়দান ছাড়তে যে তিনি নারাজ, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। এখন দেখার, আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে তৃণমূল নেতৃত্ব কতখানি শক্তিশালী তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারে। তবে অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
