১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে সিজিও থেকে বেরোলেন অভিষেক, কোনো অবস্থাতেই মাথা নত করবেন না বলে হুঁশিয়ারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) টানা ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে সকাল ১১টায় নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেওয়ার পর, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১০টা নাগাদ তিনি বাইরে আসেন। তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন এই তৃণমূল নেতা। পর পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার তলবের চাপ সত্ত্বেও তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই আত্মসমর্পণ করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
তদন্তে সহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তদন্তের স্বার্থে তিনি তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, যারা বিজেপির বিরোধিতা করছে, তাদের সবাইকে এভাবেই নিশানা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি বহুবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁকে ভিত্তিহীনভাবে জড়ানো হচ্ছে দাবি করে তিনি জানান, এই মামলায় অতীতে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁরা এখন জামিনে মুক্ত এবং প্রকৃত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা এখনও কোনো সুরাহা পাননি।
বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা এবং দূরগামী প্রভাব
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিষেক সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধী শূন্য করার এবং দল ভাঙার একটা চক্রান্ত চলছে। তাঁর অভিযোগ, একদিকে যেমন সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে জেলে ভরার রাজনীতি চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পর পর দুই দিনে সিআইডি ও ইডির এই ব্যাক-টু-ব্যাক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আজ মঙ্গলবার আবারও সিআইডির তলবের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা যখন দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে মরিয়া, অন্যদিকে তৃণমূল এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনসমক্ষে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কৌশল নিতে পারে, যা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
