১২ পাতার ফর্মে নাভিশ্বাস, অন্নপূর্ণা যোজনার প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস অগ্নিমিত্রার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল। ১২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ফর্মে চাওয়া একগাদা নথির জেরে আমজনতার নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হতেই এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করার কথা ভাবছে প্রশাসন। রাজ্যের নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, উপভোক্তাদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে এই ফর্মের সরলীকরণ করা হতে পারে এবং এই বিষয়ে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন।
জটিল ফর্মে বাড়ছিল উদ্বেগ
অন্নপূর্ণা যোজনা ছিল মূলত বিজেপির একটি বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। রাজ্যে সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই প্রকল্পের অনুমোদন মেলে, যার মাধ্যমে পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বুধবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সাইবার ক্যাফে এবং স্থানীয় সরকারি দফতরগুলিতে ফর্ম তোলার জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ফর্ম হাতে আসতেই উপভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ১২ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জমি-জায়গার দলিল, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের নথি-সহ যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নথি জোগাড় এবং ফর্ম পূরণ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র।
এই জটিলতা নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, যাকে ইচ্ছে তাকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশিরা এর সুবিধা নিতে না পারে। তবে সবকিছুর সরলীকরণ হবে। অন্যদিকে, নারী-শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মা-বোনেদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, বাংলার মা-বোনেদের যদি ফর্ম পূরণ করতে অসুবিধা হয় তবে ফর্মের সরলীকরণ অবশ্যই হবে। পাশাপাশি তিনি ফর্মে কোনও অসত্য তথ্য না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও সরকারি নজরদারি
১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, এই ফর্মের মাধ্যমেই আসলে রাজ্য সরকার নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা সংগ্রহ করছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। স্থানীয় বিধায়কদেরও এই কাজে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফলাইনে এই ফর্ম বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভিড় এড়াতে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প বা ‘সহায়তা শিবির’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া শেষ। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদান করা, যাতে কোথাও কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। সেই নিয়ম মেনেই ধাপে ধাপে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং পরিষেবা বণ্টনের ওপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
