১৪০ বছরের সব রেকর্ড চুরমার করবে ‘সুপার অল নিনো’! ইতিহাসে ভয়াবহতম গরমের মুখে পৃথিবী?

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার এক ভয়াবহ পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদ ও বিজ্ঞানীরা। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে চলতি বছরে তাপমাত্রা গত ১৪০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এল নিনোর এই দ্বিমুখী প্রভাবে পৃথিবী এক চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা জনজীবন ও প্রকৃতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুপার এল নিনো ও জলবায়ু সংকট
প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠদেশ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এমন পরিস্থিতি হাতেগোনা কয়েকবার দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা এমনিতেই বাড়তি, তার ওপর এই শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হওয়ায় তৈরি হচ্ছে ‘ডাবল অ্যাটাক’। এর ফলে ২০২৬-২৭ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
কৃষি ও জনজীবনে সম্ভাব্য বিপর্যয়
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু ও কৃষি ব্যবস্থার ওপর। এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি খরার আশঙ্কা দেখা দেয়। বৃষ্টিহীনতায় ধান ও আখের মতো প্রধান ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলর স্তর নেমে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট তীব্রতর হতে পারে এবং উত্তর ও মধ্য ভারতসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রাণঘাতী ‘হিটওয়েভ’ বা লু হাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এক ঝলকে
- প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণায়নের কারণে ১৪০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬-২৭ সালে পৃথিবী চরম দাবদাহের কবলে পড়বে।
- মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরার ঝুঁকি বাড়ছে।
- ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে খাদ্য সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
