১৭ বছরের পড়ুয়াও কি দেশদ্রোহী, প্রশ্ন তুলে সিবিএসই বিতর্কে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের – এবেলা

১৭ বছরের পড়ুয়াও কি দেশদ্রোহী, প্রশ্ন তুলে সিবিএসই বিতর্কে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির নতুন অনস্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (ওএসএম) নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। ফল প্রকাশের পর থেকেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কোথাও অন্যের উত্তরপত্র আপলোড করার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা নিখোঁজ হওয়া বা ঝাপসা স্ক্যানিংয়ের মতো গুরুতর ত্রুটি সামনে এসেছে। কিন্তু এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুখ খুলেই চরম হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এবার সেইসব ভুক্তভোগী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

নম্বর বিভ্রাটে জর্জরিত পড়ুয়ারা, মিলছে ‘দেশবিরোধী’ তকমা

অভিযোগ উঠেছে, নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বহু শিক্ষার্থীর খাতা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। নম্বর গণনায় ভুলের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন (রিভ্যালুয়েশন) প্রক্রিয়াতেও সার্ভার ও পেমেন্ট গেটওয়ের ত্রুটি দেখা গেছে। বেদান্ত নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সিবিএসই তাঁর রোল নম্বরে যে উত্তরপত্রটি আপলোড করেছে, সেটি আদতে তাঁর নয়। এই নিয়মতান্ত্রিক ভুলের বিরুদ্ধে সরব হতেই সোশাল মিডিয়ায় ওই পড়ুয়াকে ‘দেশবিরোধী’ ও ‘ডিপ স্টেট-জর্জ সোরসের এজেন্ট’ বলে দেগে দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে বেদান্ত ও তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি বিশেষ আলাপচারিতার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রাহুল গান্ধী। তীব্র কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “আমার মতো দেশবিরোধী ১৭ বছরের পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতা।” রাহুল আরও জানান, এই মেধাবী ও সাহসী তরুণ ভারতীয়েরা সিবিএসই এবং মোদি সরকারের কাছে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু উত্তর পাওয়ার বদলে তাদের কপালে জুটেছে অপমান ও কটূক্তি।

ভুল স্বীকার বোর্ডের, প্রযুক্তিগত ত্রুটি খতিয়ে দেখছে আইআইটি

বিতর্ক ও সমালোচনা চরমে পৌঁছানোয় অবশেষে সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। পদ্ধতিগত ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটির কথা মেনে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইআইটি মাদ্রাজ ও আইআইটি কানপুরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগাম প্রস্তুতি ও সঠিক পরিকাঠামো ছাড়া তড়িঘড়ি ডিজিটাল অনস্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা চালু করার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর ফলে কেবল লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েনি, বরং সিবিএসই-র মতো জাতীয় বোর্ডের বিশ্বস্ততা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বোর্ড এখন ভুল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও, প্রশ্ন তোলা পড়ুয়াদের যেভাবে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *