২০ নয় আমরা ২২ জন! লোকসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের পথে বিদ্রোহী সাংসদরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের চিত্রটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোমবার লোকসভায় ‘নতুন তৃণমূল’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে, তাঁদের শিবিরে ২০ জন নয়, বরং ২২ জন সাংসদ রয়েছেন। রবিবার দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে আয়োজিত নৈশভোজ ও ঘরোয়া বৈঠকেই দলের এই বিদ্রোহী অংশের চূড়ান্ত রণকৌশল স্থির হবে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে নয়া সমীকরণ
প্রাথমিকভাবে প্রকাশ্যে আসা একটি চিঠিতে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের সই মিলেছিল। শনিবার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় সেই সংখ্যা ২০-তে পৌঁছায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সর্বশেষ দাবিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া বাকি দুই সাংসদ কারা, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় ও মালা রায়ের মতো পরিচিত মুখেরা এই শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ফলস্বরূপ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা সাংসদ সংখ্যা বর্তমানে মাত্র আটে এসে দাঁড়িয়েছে।
নেতৃত্বের রদবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংসদদের এই বিদ্রোহ লোকসভায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে। সোমবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বিক্ষুব্ধরা নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন অথবা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করতে পারেন। এই পদক্ষেপের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে। লোকসভার দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার পাশাপাশি, লোকসভায় বিরোধী শিবিরের বদলে এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে বসার আসনের দাবিও তুলতে পারেন বিক্ষুব্ধরা। এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থানকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করবে।
