১০ জন পাকিস্তানির মধ্যে ৩ জনেরই জুটছে না খাবার! দেশের চরম দুর্দশা ফাঁস করল সরকারি রিপোর্ট – এবেলা

১০ জন পাকিস্তানির মধ্যে ৩ জনেরই জুটছে না খাবার! দেশের চরম দুর্দশা ফাঁস করল সরকারি রিপোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইসলামাবাদ: চরম আর্থিক সংকটে ডুবে থাকা পাকিস্তানের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সে দেশের সাধারণ মানুষের দুর্দশা এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট করে দিল খোদ পাকিস্তান সরকারেরই একটি সরকারি রিপোর্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) রিপোর্ট অনুযায়ী, সে দেশে দারিদ্র্য রকেট গতিতে ছড়াচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে পাকিস্তানে বসবাসকারী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জন মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন এবং দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য কার্যত লড়াই করছেন। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে যেখানে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ২১.৯ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮.৯ শতাংশে। এর ফলে নতুন করে দেশের কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের অন্ধকারে তলিয়ে গেছেন।

কেবল গ্রামেই নয়, পাকিস্তানের শহর অঞ্চলেও এই পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম এবং আয়ের বৈষম্যই দেশটিকে এই ভিখারির দশায় এনে দাঁড় করিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস, বাজেটে ঐতিহাসিক ছাঁটাই:

অন্যদিকে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর শিক্ষা ক্ষেত্রেও কুড়ুল চালিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শিক্ষার জন্য বরাদ্দ সরকারি তহবিল প্রায় ২৩ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার বাজেট দেশের মোট জিডিপি (GDP)-র মাত্র ০.৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে শিক্ষাক্ষেত্রে এত কম টাকা বরাদ্দ করার রেকর্ড এই প্রথম। এর ফলে গ্রামীণ ও দরিদ্র এলাকার সরকারি স্কুলগুলো ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে কার্যত ধুঁকছে। আর তার জেরে লক্ষ লক্ষ স্কুলপড়ুয়া মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সরকারি রিপোর্টেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যদি এই চরম দারিদ্র্যের কবল থেকে বেরোতে চায় এবং মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে চায়, তবে শিক্ষাক্ষেত্রে অবিলম্বে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *