বিয়ে করতে চেয়েই কাল হলো! প্রেমিকার ছকে যুবতীকে খুন করে দেহে পাথর বেঁধে পুকুরে ভাসাল প্রেমিক – এবেলা

বিয়ে করতে চেয়েই কাল হলো! প্রেমিকার ছকে যুবতীকে খুন করে দেহে পাথর বেঁধে পুকুরে ভাসাল প্রেমিক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশাখাপত্তনম: পরকীয়া সম্পর্কের কাঁটা সরাতে নিজের হবু প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন! তারপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহের সাথে ভারী পাথর বেঁধে পুকুরের জলে ডুবিয়ে দেওয়ার এক হাড়হিম করা ঘটনা সামনে এল অন্ধ্রপ্রদেশে। গত ৯ জুন পার্বতীপুরম মান্যম জেলার তুমরাডা গ্রামের একটি পুকুর থেকে ৩৪ বছর বয়সী এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মূল অভিযুক্ত প্রেমিক, তার পরকীয়া প্রেমিকা ও এক বন্ধুসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

ভলান্টিয়ারের কাজ করার সময় প্রেম:

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মৃত মহিলার নাম উষারাণী (৩৪)। তিনি পালাকোণ্ডা মণ্ডলের পর্ণা সীতমপেটের বাসিন্দা ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় ভুবনেশ্বর নামে এক যুবকের সাথে তাঁর পরিচয় হয়, যা পরে গভীর প্রেমে রূপ নেয়। দুজনে শীঘ্রই বিয়ে করবেন বলেও ঠিক করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কথা উঠতেই ভুবনেশ্বরের আসল রূপ সামনে আসে।

পরকীয়া সম্পর্কের জেরেই মর্মান্তিক পরিণতি!

আসলে ভুবনেশ্বরের সাথে আগে থেকেই ওই এলাকার একটি হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক নার্স কৃপারাণী নামের এক বিবাহিত মহিলার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। উষারাণী ক্রমাগত বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকায়, তাঁকে রাস্তা থেকে সরিয়ে কৃপারাণীর সাথে সংসার পাতার পরিকল্পনা করে ভুবনেশ্বর। উষারাণী বেঁচে থাকলে তাঁদের মিলন সম্ভব নয় বুঝে, ভুবনেশ্বর তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা কৃপারাণী এবং বন্ধু তেজেশ্বর রাওকে সাথে নিয়ে এক ভয়ঙ্কর খুনের ছক কষে।

চলন্ত গাড়িতে শ্বাসরোধ করে খুন, দেহে পাথর বেঁধে পুকুরে নিক্ষেপ:

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৬ জুন উষারাণীকে একটি গাড়িতে তোলে ওই তিনজন। এরপর তাঁকে কোল্ড ড্রিঙ্কসের সাথে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। উষারাণী অচেতন হয়ে পড়তেই চলন্ত গাড়ির ভেতরেই তাঁর গলা টিপে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। প্রমাণ নষ্ট করতে প্রথমে শ্রীকাকুলাম জেলার একটি পুকুরে লাশটি ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে জল কম থাকায় দেহটি ভেসে ওঠে।

তা দেখে ভয় পেয়ে খুনিরা মৃতদেহটি আবার গাড়িতে তুলে পার্বতীপুরম মান্যম জেলার তুমরাডা গ্রামের একটি গভীর পুকুরে নিয়ে যায়। এবার যাতে দেহ কোনওভাবেই ভেসে না ওঠে, সেজন্য মৃতদেহের সাথে ভারী পাথর বেঁধে সেটিকে জলের গভীরে ফেলে দিয়ে তারা চম্পট দেয়। গত ৯ জুন দেহটি জলের ওপরে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুবনেশ্বর, কৃপারাণী ও তেজেশ্বর রাওকে গ্রেফতার করে। জেরায় ধৃতরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *