২৪ বছর ধরে জবরদখল সম্পত্তি, তদন্তে চরম গাফিলতি! ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চব্বিশ বছরেও শেষ হয়নি জালিয়াতির তদন্ত, সুপ্রিম কোর্টের চরম ভর্ৎসনার মুখে পুলিশ
দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও একটি সম্পত্তি জালিয়াতির মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গুজরাটের এই ঘটনায় তদন্ত শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও তা পালন না করায় শীর্ষ আদালত পুলিশের ভূমিকাকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও আইনি জটিলতা
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০২ সালে অভিযোগকারী যখন হজ পালনে দেশের বাইরে ছিলেন, সেই সুযোগে চার ব্যক্তি তাঁর স্থাবর সম্পত্তির জাল নথিপত্র তৈরি করে। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ওই ভুয়া দলিল ব্যবহার করে সম্পত্তি নিজেদের নামে হস্তগত করার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী ব্যক্তি আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। এর আগে ২০১৪ সালে সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে গুজরাট হাইকোর্টও ছয় সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেই তদন্ত আজও ঝুলে রয়েছে।
বিচারপতিদের কঠোর পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে দ্রুত বিচারের অধিকারের পরিপন্থী। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, সাংবিধানিক আদালতগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এমন মামলার ক্ষেত্রে দর্শক হয়ে বসে থাকতে পারে না। তদন্ত চলাকালীন পুলিশি নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও আদালতের নজরে এসেছে, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
রাজস্ব দপ্তরের নথিপত্রে জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের এই মামলায় বিচার বিলম্বিত হওয়ার ফলে ন্যায়বিচারের পথ দীর্ঘতর হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এবার গুজরাট পুলিশকে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনিক গাফিলতি ও বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন না হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।
