২৫ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া, ইইউ-র ওপর ট্রাম্পের চরম পদক্ষেপে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক আকস্মিক ঘোষণায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অঙ্গন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আসা সমস্ত গাড়ি এবং লরির ওপর আমদানিশুল্ক বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক মৈত্রীতে ফাটল ধরার উপক্রম হয়েছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
এই শুল্ক বৃদ্ধির নেপথ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান অভিযোগ হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ওয়াশিংটনের সাথে পূর্বের বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইইউ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, এবং এই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ তারই একটি পাল্টা জবাব। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইইউ কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মতে, ইউরোপ কোনো চুক্তি ভঙ্গ করেনি এবং ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে। এই অনড় অবস্থানের ফলে দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
গাড়ি শিল্পে বিপর্যয় ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ইউরোপের শক্তিশালী গাড়ি উৎপাদনকারী দেশগুলো। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাজারে ইউরোপীয় যানবাহনের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যা সরাসরি উৎপাদন ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ইইউ যদি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে কেবল আটলান্টিক অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
