৩০ দিন চা বর্জন করলেই বদলে যাবে শরীর! জেনে নিন দীর্ঘমেয়াদী সুফল ও কিছু সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ঘরে ঘরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা অভ্যাসের নাম চা। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে আড্ডার আসর—সবখানেই চায়ের রাজত্ব। তবে সম্প্রতি এক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক মাস অর্থাৎ ৩০ দিন চা পানের অভ্যাস পুরোপুরি বন্ধ রাখলে মানবদেহে বিস্ময়কর পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত দুগ্ধজাত ও চিনিযুক্ত চা পানে অভ্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি স্পষ্ট হয়।
শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন চা বর্জন করার ফলে শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে স্নায়ুতন্ত্রের ওপর, যার ফলে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা দূর হয় এবং দুশ্চিন্তা কমতে শুরু করে। এ ছাড়া চা পানের অভ্যাস বাদ দিলে শরীরে জলসাম্য বজায় থাকে এবং হজমপ্রক্রিয়ায় দারুণ উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথম কয়েকদিন মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা ক্যাফেইন ত্যাগের সাময়িক লক্ষণ মাত্র।
বিকল্প পানীয় ও বিশেষ সতর্কতা যারা চায়ের স্বাদ মিস করতে চান না, তারা দুধ-চায়ের বদলে ভেষজ চা (Herbal Tea), ফলের রস বা গরম জলে মধু ও লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের চা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়; কারণ চায়ের ট্যানিন শরীরকে আয়রন শোষণে বাধা দেয়। এ ছাড়া হৃদরোগ, অ্যাসিডিটি বা গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
এক ঝলকে
- টানা এক মাস চা না খেলে অনিদ্রার সমস্যা কমে এবং গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়।
- শরীরে ক্যাফেইনের অভাবজনিত কারণে শুরুতে সাময়িক মাথাব্যথা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
- হজমশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং রক্তাল্পতায় ভোগা রোগীদের আয়রন শোষণ ক্ষমতা বাড়ে।
- বিকল্প হিসেবে ক্যাফেইন-মুক্ত হার্বাল চা বা লেবু-জল পানের অভ্যাস গড়ে তোলা কার্যকর।
