৪৭ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ, মুসলিমপ্রধান লাক্ষাদ্বীপে কেন হঠাৎ চালু হলো মদ বিক্রি? – এবেলা

৪৭ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ, মুসলিমপ্রধান লাক্ষাদ্বীপে কেন হঠাৎ চালু হলো মদ বিক্রি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ৫ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের ফলে দীর্ঘ ৪৭ বছরের পুরোনো আইনি বিধিনিষেধের অবসান ঘটল। ১৯৭৯ সাল থেকে জারি থাকা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি অঞ্চলটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন।

ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, লাক্ষাদ্বীপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশই মুসলিম এবং তাঁদের একটি বড় অংশ তপসিলি উপজাতিভুক্ত। ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতির কথা বিবেচনা করে ১৯৭৯ সালে সেখানে মদ বিক্রির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এর ফলে গুজরাট ও বিহারের মতো লাক্ষাদ্বীপও ভারতের একটি অন্যতম ‘ড্রাই স্টেট’ বা মদমুক্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ সর্বব্যাপী ছিল না; কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের নির্দিষ্ট কিছু রিসোর্টে পর্যটক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সীমিত আকারে মদ্যপানের সুযোগ আগে থেকেই চালু ছিল।

পর্যটন বিকাশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রশাসনের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের মূল কারণ হলো লাক্ষাদ্বীপকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। ২০২০ সালে যেখানে লাক্ষাদ্বীপের বার্ষিক পর্যটক সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৮৭৫ জন, ২০২৪ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬৮ হাজার ৩২৮ জনে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর থেকে এই অঞ্চলে পর্যটকদের আগ্রহ রেকর্ড হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মদের সহজলভ্যতা না থাকার কারণে লাক্ষাদ্বীপ অন্যান্য সমসাময়িক দ্বীপ-পর্যটন কেন্দ্রগুলোর চেয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন বিদেশি ও ঘরোয়া পর্যটকদের আকর্ষণ করা সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় রাজস্ব ও পর্যটন অর্থনীতি চাঙ্গা হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *