ভয়ংকর হামলার হুমকির পরেই ট্রাম্পের আকস্মিক ইউ টার্ন, ইরানের সঙ্গে সন্ধির বার্তা আমেরিকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মাঝেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিজেদের অবস্থান বদল করল আমেরিকা। ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালানোর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আপাতত তেহরানের ওপর সামরিক আক্রমণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আলোচনা অনেকখানি এগিয়েছে।
হুমকি থেকে পিছু হটার নেপথ্য কারণ
এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের ঠিক আগেই বুধবার রাতভর ইরানে ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আমেরিকা। সিরিক ও মিনাবসহ ইরানের একাধিক শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে তেহরানও। এই সংঘাতের জের ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে এবার দেশটির প্রধান তৈলভাণ্ডার খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেবে ওয়াশিংটন। কিন্তু সেই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন পোস্টে জানান, আমেরিকার আলোচনার প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। তবে আক্রমণ স্থগিত করলেও হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন জলপথে মার্কিন অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতীতেও একাধিকবার এমন শান্তি বৈঠকের দাবি পরবর্তীতে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এই সন্ধির বার্তা আসলেই স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি এটি সাময়িক কোনো যুদ্ধকৌশল, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদি এই চুক্তি চূড়ান্ত রূপ না পায়, তবে হরমুজ প্রণালীর জলপথ অবরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হতে পারে।
