আট বছরের জট কাটিয়ে অর্থনৈতিক করিডরের জমি হস্তান্তর মুর্শিদাবাদে! – এবেলা

আট বছরের জট কাটিয়ে অর্থনৈতিক করিডরের জমি হস্তান্তর মুর্শিদাবাদে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

খড়গপুর থেকে বর্ধমান হয়ে মোড়গ্রাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত ১১৬ (এ) জাতীয় সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জমি জট কাটার প্রক্রিয়া শুরু হলো। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে জেলাশাসক ভবনে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। এর ফলে বহু প্রতীক্ষিত এই অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হলো।

বাঁধা পেরিয়ে উন্নয়নের পথে করিডর

প্রায় আট বছর আগে খড়গপুর-মোড়গ্রাম অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক ও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে থমকে ছিল প্রকল্পের কাজ। পরবর্তীতে জটিলতা কেটে যাওয়ায় দ্রুত গতি পায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। মুর্শিদাবাদ জেলায় এই করিডর বড়ঞা, খড়গ্রাম, নবগ্রাম ও সাগরদিঘি পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্ধমান থেকে বড়ঞায় প্রবেশ করে সাগরদিঘির মোড়গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩৮.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতে ৮৯.৮১৬৪ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত

মোড়গ্রামের এই ১১৬ (এ) অর্থনৈতিক করিডরটি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৫৮৬ একর জমির প্রয়োজন, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৫১.২২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের আশা, আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাকি জমির হস্তান্তর প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন জানিয়েছেন, ৩৮.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে প্রায় ১৬.০১ কিলোমিটারের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বাকি কাজ সম্পন্ন হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বর্ধমান প্রকল্পের আধিকারিক সৌতম পাল জানিয়েছেন, খড়গপুর থেকে মোড়গ্রাম পর্যন্ত ছয়টি জেলায় মোট ২৩০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে, এবং ৮০ শতাংশ জমি হাতে এলেই মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই করিডর পুরোপুরি চালু হলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সহজতর হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *