৭ হাজারি স্মার্টওয়াচে বড় জালিয়াতি? হজ যাত্রীদের দেওয়া জিপিএস ঘড়ি ঘিরেই এখন চরম বিতর্ক

ভারতের প্রায় ১.২ লক্ষ হজযাত্রীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার বাধ্যতামূলকভাবে একটি জিপিএস স্মার্টওয়াচ প্রদান করেছে হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া। তবে যাত্রার শুরুতেই এই ডিভাইসটি নিয়ে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি যাত্রীর থেকে ৭ হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও অধিকাংশ ঘড়িই অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
নিরাপত্তার নামে বাড়তি খরচের বোঝা
সেকিও ইনোভেশনস থেকে কেনা এই স্মার্টওয়াচটি হজযাত্রীদের ট্র্যাকিং এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের অভিযোগ, ঘড়িগুলো ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে ডিভাইসটি চালুও করা যাচ্ছে না। ফলে যে ট্র্যাকিং পরিষেবার জন্য বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে, তা বাস্তবে কোনো কাজেই আসছে না। একে তো বিমান ভাড়া একলাফে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে, তার ওপর এই অকেজো ঘড়ির জন্য বাধ্যতামূলক ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করাকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন হজযাত্রীরা।
বিপাকে হজযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কমিটি
দিল্লি রাজ্য হজ কমিটির সদস্যদের মতে, পাসপোর্টের স্টিকার বা আইডি কার্ডের মতো এবারই প্রথম জিপিএস ঘড়ি কিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি যাত্রীর হজ ডিপোজিট থেকেই এই টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে স্মার্টওয়াচগুলো কাজ না করায় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হজযাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত করা আসাম্ভব হয়ে পড়লে সৌদি আরবের ভিড়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এক ঝলকে
- হজযাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্মার্টওয়াচটি চার্জ হচ্ছে না এবং ট্র্যাকিং করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।
- প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে ঘড়ির জন্য ৭ হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও পরিষেবা মিলছে না।
- প্রায় ১.২ লক্ষ হজযাত্রীর সুরক্ষার কথা ভেবে এই প্রথম জিপিএস ডিভাইস যুক্ত করা হয়েছিল।
- বিমান ভাড়া বৃদ্ধি এবং অকেজো ঘড়ির বাড়তি খরচ নিয়ে সাধারণ হজযাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
