“অন্ধ্র নয়, বাঙালির পাতে বাংলার মাছ!” মাছ উৎসবে যোগ দিয়ে তৃণমূলকে কড়া তোপ দিলীপের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের প্রচারের মোক্ষম জবাব দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ‘মিথ্যাচার’ খণ্ডন করতেই রবিবার উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে বিজেপি কর্মীদের আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য মাছ উৎসবে শামিল হলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পাত পেরে মাছ-ভাত খেয়ে তিনি বার্তা দেন যে, বিজেপি বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিপন্থী নয়, বরং সহায়ক।
অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মানিকতলা বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা হবু বিধায়ক তাপস রায়। উৎসবের মেজাজে দিলীপ ঘোষ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল সরকার বাংলাকে মাছে স্বনির্ভর করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাঙালির পাতে অন্ধ্রপ্রদেশের মাছের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অন্ধ্র নয়, বাঙালিকে বাংলার স্বাদু মাছ খাওয়ানোই বিজেপির লক্ষ্য। আমরা মুখে নয়, কাজে বিশ্বাসী।”
খাদ্য রাজনীতি ও স্বনির্ভরতার প্রতিশ্রুতি
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত দেড় দশকে রাজ্যের মৎস্য চাষিদের সঠিক পরিকাঠামো ও উৎসাহ দেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ভিন রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়েছে। তাপস রায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের জমানায় তোলাবাজির দাপটে সাধারণ মৎস্যজীবীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিজেপি সরকার এখন সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাকে মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো থেকে মাছ আসত বলেই এতদিন বাংলার মানুষ মাছ ও ডিমের যোগান পেত, যা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রভাব ও রাজনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, শপথ গ্রহণের পর পরই দিলীপ ঘোষের এই ‘মাছ-রাজনীতি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিজেপি দুটি প্রধান লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে। প্রথমত, কট্টর নিরামিষাশী দলের যে তকমা বিরোধীরা সেঁটে দিতে চেয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা। দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার প্রশ্নে সরাসরি তৃণমূলের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তোলা। এই উৎসবের মাধ্যমে বিজেপি সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নতুন সরকার বাঙালির চিরকালীন আবেগ ‘মাছ-ভাত’কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দিনে রাজ্যের মৎস্য নীতিতে বড়সড় রদবদল আসতে পারে বলেও এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে।
