অপারেশন এপিক ফিউরি ২, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও তেহরানে হামলার ছক আমেরিকার – এবেলা

অপারেশন এপিক ফিউরি ২, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও তেহরানে হামলার ছক আমেরিকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তান সরকারের বিশেষ অনুরোধে ইরানের সাথে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তেহরানের ওপর বড়সড় সামরিক অভিযানের গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। চিন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও পর্দার আড়ালে আমেরিকা ও ইজরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে এক বিধ্বংসী আক্রমণের ছক কষছে, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ট্রাম্পের অসন্তোষ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না। এক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবের জন্য ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না। শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ফিল্ড মার্শাল এবং সে দেশের জনগণের অনুরোধের কথা মাথায় রেখেই হোয়াইট হাউস সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। তবে এই বিরতি যে দীর্ঘস্থায়ী নয়, তা মার্কিন প্রশাসনের রণকৌশল থেকেই স্পষ্ট।

পেন্টাগনের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

পেন্টাগনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সম্প্রতি দেশের সংসদীয় শুনানিতে অংশ নিয়ে সাফ জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী যুদ্ধকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো সবরকম পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে তৈরি রয়েছে। আরব দুনিয়ার দুই শীর্ষ আধিকারিকও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরান নতুন করে মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এই মুহূর্তে রণকৌশলগত কারণে একটু সময় নিচ্ছে এবং পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামতে চাইছে। সদ্য সমাপ্ত চিন সফরেও ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পারমাণবিক বোমা অর্জনের চেষ্টা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, এই বিষয়ে বেজিংও ওয়াশিংটনের সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা এখন শুধু রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই হামলা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা তীব্র আকার ধারণ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *