অপারেশন লাগবে না, দূর হবে হাঁটুর যন্ত্রণা! মহীশূরের ‘মহা বৈদ্য’ শিবের মহিমা জানলে অবাক হবেন – এবেলা

অপারেশন লাগবে না, দূর হবে হাঁটুর যন্ত্রণা! মহীশূরের ‘মহা বৈদ্য’ শিবের মহিমা জানলে অবাক হবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান জীবনযাত্রায় দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ এবং শরীরচর্চার অভাবে পিঠ, কোমর ও হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন সব বয়সের মানুষ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক সময় এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমাধানে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কর্ণাটকের মহীশূর জেলার নানজানগুড়ু এলাকায় অবস্থিত শ্রী বৈদ্য নঞ্জুন্ডেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে জটিল সব শারীরিক সমস্যার সমাধান মিলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ‘দক্ষিণ কাশী’ হিসেবে পরিচিত এই তীর্থস্থানেই শিবের এক বিশেষ রূপ ‘বৈদ্য নঞ্জুন্ডেশ্বর’ বিরাজমান, যাকে ভক্তরা সমস্ত রোগের মহাবৈদ্য হিসেবে মান্য করেন।

ব্যথা দূরীকরণে প্রাচীন রীতি ও প্রথা

কপিলা নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরে হাড়ের ক্ষয় বা হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণায় ভোগা রোগীরা দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কপিলা নদীতে স্নান সেরে ভেজা কাপড়ে প্রভুকে দর্শন করলে দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এখানে আগতরা বিশেষ ‘উরুলু সেবা’ বা মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে ভক্তি প্রদর্শন করেন। এছাড়া শরীরের ব্যথার স্থানে মন্দিরের পবিত্র বিভূতি বা ভস্ম প্রয়োগ করলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায় বলে প্রচলিত রয়েছে। মানত হিসেবে অনেকে রুপো বা কাঠের তৈরি হাত-পায়ের প্রতিকৃতিও দেবতাকে উৎসর্গ করেন।

কারণ ও প্রভাবের বিশ্লেষণ

মূলত দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং অস্ত্রোপচারের ভয় বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে সাধারণ মানুষ এই আধ্যাত্মিক পন্থার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের মাঝেও এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস মানুষের মানসিক স্বস্তি ও আরোগ্য লাভের প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। ভক্তদের দাবি, যেখানে আধুনিক ওষুধ ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিয়ে এই মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাবে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পর্যটন ও পুণ্যার্থীদের সমাগম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *