অভাবকে হারাল অদম্য জেদ, মাধ্যমিকে প্রথম হয়ে এখন আইআইটি-র স্বপ্নে বিভোর রায়গঞ্জের অভিরূপ

২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে সে। কোভিড আবহে বাবাকে হারানোর পর মা ইন্দ্রাণী চৌধুরী ভদ্রের একক লড়াই আর ছেলের কঠোর পরিশ্রমই আজ অভিরূপকে সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
সাফল্যের নেপথ্যে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি
অভিরূপের এই ফলের পেছনে ছিল না কোনো ধরাবাঁধা সময়ের নিয়মে পড়া। বরং প্রতিদিন রিভিশনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে এগোত সে। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি তার ৯ জন গৃহশিক্ষকের সঠিক দিকনির্দেশনা এই দীর্ঘ লড়াইকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল। রায়গঞ্জ হাসপাতালের স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত তাঁর মা সংসারের সব দায়িত্ব একা হাতে সামলে ছেলের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও পেশাদার স্বপ্ন
প্রাথমিক বাধা টপকে অভিরূপের নজর এখন অনেক দূরে। বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে সে নিজেকে একজন দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেখতে চায়। তার পরবর্তী লক্ষ্য হলো আইআইটি। এই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য এখন থেকেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে চায় এই মেধাবী ছাত্র। তার মতে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার চাপ বাড়বে, তাই লক্ষ্যপূরণে আরও বেশি সময় বইয়ের পাতায় দিতে সে প্রস্তুত।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৯৮ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অভিরূপ ভদ্র।
- কোভিডকালে বাবাকে হারানোর পর মা ইন্দ্রাণী দেবীর একক লড়াইয়ে বড় হয়ে ওঠা এই মেধাবীর।
- অভিরূপের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো আইআইটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
- নির্দিষ্ট ঘণ্টা মেপে নয়, বরং রিভিশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে পড়াশোনাই ছিল তার সাফল্যের মূল মন্ত্র।
