অভাবের তাড়নায় তুলেছিলেন বন্দুক, সমাজের মূল স্রোতে ফিরছেন প্রাক্তন মাও নেত্রী শকুন্তলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চলেছেন একসময়ের দাপুটে মাওবাদী কমান্ডার শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে পালিয়ে আত্মসমর্পণ করা এই প্রাক্তন নেত্রীকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করেছে প্রশাসন। খুব শীঘ্রই নবান্ন থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে।
বঞ্চনার অতীত ও পুনর্বাসনের নয়া দিশা
একসময় চরম দারিদ্র্য ও দু’বেলা ভরপেট খাবারের অভাবে বাম আমলে বিপথে চালিত হয়ে বন্দুক তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন শকুন্তলা। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁর পরিবার দীর্ঘকাল বঞ্চিত ছিল। তবে বর্তমান সরকারের মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। এই প্যাকেজের অধীনে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরিতে মাসিক ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, আবাসন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার মতো সুবিধা মিলবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অভাব ও বঞ্চনা কাটিয়ে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির বাসিন্দা শকুন্তলার পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রক্তচক্ষুর আড়ালে বন্যপ্রাণ প্রেম
দশ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত এই মাও নেত্রীর আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে অতীতের সহযোদ্ধা রঞ্জিত পাল গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন। জঙ্গল জীবনে ইনসাস হাতে যাঁর রক্তচক্ষুকে একসময় ভয় পেত মানুষ, তাঁরই এক বিপরীত রূপ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। আত্মসমর্পণের পর পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁর প্রবল বন্যপ্রাণ প্রেমের কথা জানা যায়। মাও স্কোয়াডে থাকার সময়ও ঝড়ে আহত পাখির যত্ন নেওয়া বা মা-হারা হনুমান শাবককে নিজের কাছে রেখে বড় করে তোলার মতো মানবিক কাজ করেছেন তিনি। শকুন্তলার কোলে হনুমান শাবকের একটি ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, যা তাঁর কঠিন জঙ্গল জীবনের এক অন্য অধ্যায়কে তুলে ধরেছে।
