অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতে অতিসক্রিয়তা কেন, টলিউডকে আয়না দেখালেন সৌরভ দাস

টলিউড তারকাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পর্দার বাইরের ভূমিকা নিয়ে যখন জলঘোলা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন অভিনেতা সৌরভ দাস। ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অভিনয় জগতের মানুষদের মূল পরিচয় তাঁদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। রাজনীতির ময়দানে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে শিল্পীদের পুনরায় সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ইন্ডাস্ট্রির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ বর্তমান সময়ের অভিনেতাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ভারতবর্ষের অন্য কোনো বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীরা রাজনীতির বিষয়ে এত বেশি কথা বলেন না বা সক্রিয় থাকেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে টলিউডে অভিনয় এবং বিনোদন ছাড়া বাকি সব বিষয়েই চর্চা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য নিজেকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি জানান, অভিনেতারা কেন অভিনয়ের বাইরে এত বেশি কথা বলেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়। এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত সৃজনশীল কাজে ফেরা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় চমক দিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সৌরভ দাস। তৎকালীন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন তিনি। সেই সময় নিজের বাবার ছাত্র রাজনীতির ইতিহাস টেনে এনে মানুষের সেবার অঙ্গীকার করেছিলেন অভিনেতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মানসিকতার এই বদল টলিউডের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিটি বাংলায় মুক্তির দাবিতে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ নিয়ে করা এই মন্তব্যগুলি তাঁর পরিবর্তিত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৌরভ দাসের এই মন্তব্য টলিউডের শিল্পী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। একদিকে যেমন সৃজনশীল কাজে ফেরার বার্তা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর এই মোহভঙ্গ টলিউড ও রাজনীতির দীর্ঘদিনের সখ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত নিজের পেশাগত সত্তাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার যে আরজি তিনি জানিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্পীদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
