অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রাক্তন মন্ত্রীর এফআইআর ঘিরে তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা – এবেলা

অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রাক্তন মন্ত্রীর এফআইআর ঘিরে তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন এসডিপিও মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধে মগরাহাট (পশ্চিম) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মগরাহাট (পশ্চিম) কেন্দ্রের তিনবারের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রাক্তন সদস্যের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রাক্তন এই মন্ত্রীর দাবি, এতদিন তিনি দলের একাংশের আক্রমণ ও পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। তবে বর্তমানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগের নেপথ্যে নির্যাতন ও স্বৈরাচারী শাসনের চালচিত্র

সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে টিকিট না দিয়ে শামিম আহমেদ মোল্লাকে প্রার্থী করেছিল। থানায় দায়ের করা অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক দাবি করেছেন, ডায়মন্ড হারবার মহকুমার তৎকালীন এসডিপিও মিতুন কুমার দে এলাকায় সম্পূর্ণ একনায়কতন্ত্র চালাতেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ও স্বৈরাচারী কায়দায় দল চালানোকে যারা মেনে নিতে পারতেন না, সেই সমস্ত তৃণমূল কর্মী ও নেতাদের বিরুদ্ধে অকারণে দমনমূলক পদক্ষেপ নিতেন ওই পুলিশ আধিকারিক। গিয়াসউদ্দিন মোল্লার অভিযোগ, একবার এক তৃণমূল কর্মীকে থানার ভেতরে ঢুকিয়ে তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তিনি বিধায়ক হিসেবে এর প্রতিবাদ করতে গেলে এসডিপিও তাঁকে চরম অপমান করে লাঠি উঁচিয়ে মারতে তেড়ে আসেন। এই গুরুতর অপমানের বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাঁর সাফ দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই ওই পুলিশ কর্তা এই ধরণের অত্যাচার চালাতেন। বিতর্কিত ভূমিকার কারণে নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন মিতুন কুমার দে-কে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।

আইনি চাপ বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা দাবি

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ঠিক দু’দিন আগেই অর্থাৎ শুক্রবার রাতে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়া এবং হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। পর পর এই আইনি ধাক্কা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *