অভিষেক, কল্যাণ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা বিকাশের, বাংলায় কি তবে বুমেরাং হচ্ছে বাহুবলী সংস্কৃতি? – এবেলা

অভিষেক, কল্যাণ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা বিকাশের, বাংলায় কি তবে বুমেরাং হচ্ছে বাহুবলী সংস্কৃতি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীরামপুরে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার উপকণ্ঠে শাসকদলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের আক্রান্ত হওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে যেখানে বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের ভেতরের লড়াই বলে কটাক্ষ করেছে, অন্যদিকে এই জোড়া হামলার ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন প্রবীণ বাম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূল ও বিজেপি, দুই দলকেই একযোগে কাঠগড়ায় তুলে বাংলায় গুন্ডামিকে লালন করার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা করেছেন আলিমুদ্দিনের এই হেভিওয়েট নেতা।

সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী ও গুন্ডামিকে লালন করার কুচিত্র

সোনারপুর ও শ্রীরামপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, এভাবে শারীরিক আক্রমণ কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে না। শাসক ও প্রধান বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিজেপি ও তৃণমূল দুটি দলই অন্ধ কমিউনিস্ট বিরোধী আচরণ করে গুন্ডামিকে লালন করছে, যার ফলস্বরূপ এই ধরণের কুচিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে যে হিংসা এবং ‘বাহুবলী’ সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, আজ তা বুমেরাং হয়ে নিজেদের দিকেই ধেয়ে আসছে বলে বামেরা মনে করছে।

আভ্যন্তরীণ ক্ষোভের তত্ত্ব বিজেপির, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক শাসকদলের

হামলার ঘটনা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এর সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আদতে তৃণমূলের অন্দরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূলের’ লড়াই। এই ধরণের হিংসা সভ্য সমাজে কাম্য নয় এবং বিজেপি যেকোনো হিংসার বিরোধিতা করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগামী ১ ও ২ জুন রাজ্য জুড়ে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে বামেদের সাফ দাবি, এই সামগ্রিক বিশৃঙ্খলা আদতে বাংলায় গণতন্ত্রের নামে চলতে থাকা ‘গুন্ডামি’রই এক অনিবার্য ও চরম পরিণতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *