অম্বুবাচী ২০২৬: শুরু হচ্ছে আজ থেকেই! জেনে নিন দিনক্ষণ ও জরুরি কিছু নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অম্বুবাচী হলো পূর্ব ভারতের সনাতন ঐতিহ্যের অত্যন্ত পবিত্র একটি উৎসব। এটি মূলত ধরিত্রী মাতা বা পৃথিবীর উর্বরতা এবং প্রকৃতির নবায়নের প্রতীক।
২০২৬ সালের অম্বুবাচীর নির্ঘণ্ট ও সময়সূচী:
- শুরু: ২২শে জুন, ২০২৬ (সোমবার), রাত ৯টা ০৮ মিনিটে।
- শেষ: ২৬শে জুন, ২০২৬ (শুক্রবার), রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে।
অম্বুবাচীর তাৎপর্য:
হিন্দু লোকবিশ্বাস অনুসারে, অম্বুবাচীর এই নির্দিষ্ট সময়ে ভূমি দেবী ঋতুমতী হন এবং তিনি বিশ্রাম ও নবায়নের মধ্য দিয়ে যান। বর্ষা ঋতুর আগমন এবং কৃষিচক্রের শুরুর সাথে এই উৎসবের গভীর সংযোগ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই উৎসব শেষ হওয়ার পর পৃথিবী আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুত হয়।
মূল কেন্দ্রবিন্দু কামাখ্যা মন্দির:
অম্বুবাচী উৎসবের মূল কেন্দ্র হলো আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বিখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দির। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কামাখ্যায় এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলা বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার সাধারণ ভক্ত, সাধু, সন্ত এবং তান্ত্রিক সাধকেরা এই সময়ে মন্দিরে সমবেত হন। এই তিন দিন মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ থাকে।
এই দিনগুলোতে কী কী নিয়ম মানা হয়?
ধরিত্রী মাতার বিশ্রামের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন:
- যেকোনো ধরণের কৃষিকাজ, মাটি খোঁড়া, গাছ লাগানো বা গাছপালা উপড়ানোর মতো কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা হয়।
- অনেকে এই দিনগুলোতে নতুন কোনো ব্যবসা বা শুভ কাজ শুরু করা, বিয়ে বা অন্য কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা থেকে বিরত থাকেন।
- এই সময়ে সাধারণ পূজা-পার্বণও বন্ধ থাকে।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটার পর আবার সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে ফিরতে শুরু করে। অম্বুবাচী শেষ হতেই কৃষকেরা পরম উৎসাহে আবার চাষাবাদের কাজ শুরু করেন এবং সাধারণ মানুষও তাঁদের স্থগিত রাখা শুভ কাজগুলো নতুন উদ্যমে সম্পন্ন করেন।
