অষ্টম শ্রেণি পাস যুবকের মায়াজালে ১০ মহিলা কনস্টেবল! পুলিশ সেজেই পুলিশকে ঘোল খাওয়ালেন জালিয়াত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা। নিজেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অন্তত ১০ জন মহিলা পুলিশকর্মীকে প্রেমের জালে ফাঁসানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজন বর্মা নামে এক যুবককে। লখিমপুর খেরির বাসিন্দা ওই যুবক মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস হলেও তার প্রতারণার জাল বিস্তৃত ছিল খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই। অভিযুক্ত যুবক কেবল মন জয় করেই ক্ষান্ত হয়নি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।
যেভাবে চলত নিখুঁত প্রতারণা
তদন্তে জানা গেছে, রাজন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করত। সেখান থেকে মহিলা কনস্টেবলদের পোস্টিং ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করত সে। এরপর পুলিশের ইউনিফর্ম পরা নিজের ছবি পাঠিয়ে নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করত। পুলিশি আদব-কায়দা ও কথাবার্তায় সে এতটাই পটু ছিল যে, পেশাদার পুলিশকর্মীরাও তাকে সন্দেহ করতে পারেননি। এমনকি এক মহিলা কনস্টেবলকে সে বিয়েও করেছিল। পরে আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও আর্থিক জালিয়াতি
বেরেলির পুলিশ সুপার (সিটি) রাহুল ভাটি জানিয়েছেন, রাজন কেবল আবেগের সুযোগ নেয়নি, সুকৌশলে আর্থিক জালিয়াতিও চালিয়েছে। লখনউয়ের এক সহযোগীর সাহায্যে সে মহিলা পুলিশকর্মীদের আধার ও প্যান কার্ড হাতিয়ে নিত। এরপর তাঁদের অজান্তেই সেই নথিপত্র ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের লোন নিত। বেরেলির এক মহিলা কনস্টেবল অভিযোগ করেছেন, প্লট কেনার নাম করে তাঁর নথিপত্র নিয়ে রাজন একটি গাড়ি কেনে এবং সেই ইএমআই-এর টাকা কাটতে শুরু করলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। শুধুমাত্র ওই কনস্টেবলের কাছ থেকেই ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতারণার হাতেখড়ি ও প্রভাব
তদন্তকারীদের রাজন জানিয়েছে, এক সময় লখিমপুর খেরির এক পুলিশকর্মী তাকে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলেন। চাকরি না পেলেও সেই সুবাদে পুলিশের অন্দরে যাতায়াত শুরু হয় তার। সেখান থেকেই পুলিশের ইউনিফর্ম পরা, স্যালুট দেওয়া এবং অস্ত্র ব্যবহারের খুঁটিনাটি রপ্ত করে সে। এই ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাইবার সচেতনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বর্তমানে রাজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার এই বিশাল প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
